কলকাতা পুরসভায় আটকে ১০০ কোটির রাজস্ব, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ!

কলকাতা পুরসভায় আটকে ১০০ কোটির রাজস্ব, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ!

 

এমবিসি বৈঠক নিয়ে গড়িমসি, আটকে শতাধিক কোটি টাকার রাজস্ব ও বহু বিল্ডিং প্ল্যান

কলকাতা: মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি (এমবিসি) বৈঠক না হওয়ার জেরে কলকাতা পুরসভায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়ায়। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে কয়েকশো বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন আটকে রয়েছে, যার ফলে পুরসভার প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের পথও রুদ্ধ।

পুরসভা সূত্রে খবর, সাত কাঠা বা ৫০০০ বর্গফুটের বেশি আয়তনের যেকোনো অ-আবাসিক (নন-রেসিডেন্সিয়াল) ভবন এবং সমস্ত ধরনের বাণিজ্যিক নির্মাণের নকশা অনুমোদনের জন্য এমবিসি-র বৈঠক বাধ্যতামূলক। এই কমিটির চেয়ারম্যান থাকেন পুর কমিশনার। কমিটির অনুমোদনের পর মেয়রের স্বাক্ষর ও মেয়র পরিষদের সিলমোহরের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। বর্তমানে পুরবোর্ড না থাকায় আইনিভাবে এই ক্ষমতা পুর প্রশাসকের হাতে ন্যস্ত রয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ২৫০টিরও বেশি বড় নির্মাণের ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি ফাইল অনুমোদনের জন্য পুরোপুরি তৈরি এবং সেগুলোর স্ক্রুটিনিও সম্পন্ন হয়েছে। শুধুমাত্র এমবিসি বৈঠক না হওয়ার কারণে এগুলি আটকে রয়েছে। শুধু এই ৪৫টি ফাইলের ফি বাবদই পুরসভার প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা ছিল, যা বর্তমানে বিশ বাঁও জলে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ আবাসন নির্মাণকারী সংগঠন ও আর্কিটেক্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের এক শীর্ষস্থানীয় আর্কিটেক্ট জানান, তাঁরই পাঁচটি বড় প্রকল্প আটকে থাকায় পুরসভা প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং পুর প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে এমবিসি বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছিলেন, ধনতেরাস বা উৎসবের মরসুমে মানুষ ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, কিন্তু বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদিত না হওয়ায় নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছে না, যা আখেরে পুরসভার আয়ে টান ফেলছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও পুর কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া এবং অতীতে তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতার দোহাই দিয়ে দীর্ঘ সময় এমবিসি বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে সেই জটিলতা কাটলেও কেন বৈঠক ডাকা হচ্ছে না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুরসভার এক শীর্ষকর্তা দাবি করেন, কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে এমবিসি-র বৈঠক করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *