দুধে ভেজাল দিলেই কড়া শাস্তি! সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ বিহার সরকারের!

দুধে ভেজাল দিলেই কড়া শাস্তি! সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ বিহার সরকারের!

 

খাদ্য নিরাপত্তায় জোর বিহার সরকারের: পূর্ণিয়ায় নতুন ল্যাব, রাজ্যজুড়ে নিয়মিত নজরদারির সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিহার: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ নিল বিহার সরকার। এখন থেকে উৎসবের মরশুমের পাশাপাশি সারা বছর ধরেই রাজ্যজুড়ে চলবে খাদ্য নিরাপত্তা অভিযান। সেই সঙ্গে সীমাঞ্চল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পূর্ণিয়ায় নতুন খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জন নবপ্রশিক্ষিত খাদ্য সুরক্ষা কর্মকর্তাকে সফল প্রশিক্ষণ শেষে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে মিষ্টির দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ডেইরি ফার্ম থেকে শুরু করে বড় খাদ্য উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি করা সম্ভব হবে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্ণিয়ায় স্থাপিত হতে যাওয়া পরীক্ষাগারটি স্থানীয় স্তরে দুধ, পনির, ভোজ্য তেল, মশলা ও শস্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের মান পরীক্ষার কাজ করবে। এর ফলে ভেজাল খাদ্যদ্রব্য দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ হবে। স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যে ল্যাব স্থাপনের জন্য দ্রুত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পাটনার প্রধান পরীক্ষাগারটির সংস্কার এবং রাজ্যের নয়টি বিভাগীয় সদর দপ্তরে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিহারের ২০টি জেলায় বিশেষ খাদ্য নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছিল। উক্ত অভিযানে দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, মিষ্টি, পানীয় জল ও মশলাসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অনেক স্থানে অস্বাস্থ্যকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিকে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং খাদ্য সংরক্ষণে ‘ফিফো’ (ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট) পদ্ধতি অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্যাকেটজাত পানীয় জলের ক্ষেত্রে এফএসএসএআই (FSSAI) লাইসেন্স ও মান যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব ও খাদ্য সুরক্ষা কমিশনার কুমার রবি বলেন, “ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তবে জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজে লিপ্ত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে খাদ্যদ্রব্য কেনার সময় গুণমান ও লাইসেন্স যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। ভেজাল সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *