‘টার্গেট করলে পাল্টা টার্গেট আমরাও করব’, কেন্দ্রকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বুধবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জনসভা থেকে এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই বিলের আড়ালে বাংলা তথা গোটা দেশকে ভাগ করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে প্রস্তাব কেন্দ্র দিয়েছে, তার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আসন বৃদ্ধি ও ডিলিমিটেশনের প্রেক্ষাপট
কেন্দ্রীয় সরকার আগামী দিনে লোকসভার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। সরকারের যুক্তি, আসন সংখ্যা বাড়লে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা সহজ হবে। ৩ দিনের একটি বিশেষ সংসদ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করেই এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই পদ্ধতি নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
মমতার অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশনকে এক করে কেন্দ্র বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর ভাষণের মূল বিষয়গুলো হলো:
- সংরক্ষণ ও বাংলা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রে যেখানে ৩৩ শতাংশের কথা হচ্ছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভা ও রাজ্যসভায় ৩৭ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দিয়ে নজির গড়েছে।
- বিভাজনের রাজনীতি: মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নতুন করে সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করতে পারে।
- বিজেপিকে হুঁশিয়ারি: ইসলামপুরের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত। আগামী দিনে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরবে না বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।
জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের অবস্থান
শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস নয়, আম আদমি পার্টি (AAP), আরজেডি এবং ডিএমকে-র মতো দলগুলোও এই বিলের বিরোধিতায় সরব হয়েছে। বিরোধীদের প্রধান আপত্তির জায়গা হলো জনগণনার সময়কাল। তাদের দাবি, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ২০১১ সালের পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এর বদলে ২০২১ সালের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। এছাড়া মহিলাদের সংরক্ষণের মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য আলাদা কোটার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
যদি এই ডিলিমিটেশন বিল পাস হয়, তবে ভারতের সংসদীয় কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা দক্ষিণ বা পূর্ব ভারতের তুলনায় বেশি বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় আঞ্চলিক বৈষম্যের আশঙ্কা করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
একঝলকে
- কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে দেশ ও রাজ্য ভাগের চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন।
- তৃণমূলের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই ৩৭ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দিয়ে সংরক্ষণের নজির গড়েছে।
- ২০১১ সালের পুরনো জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণের বিরোধিতা করছে বিরোধীরা।
- আসন্ন বিশেষ সংসদ অধিবেশনে এই নিয়ে বড়সড় সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।