বদলে যাচ্ছে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র! ৮৫০-এ পৌঁছাতে পারে সাংসদ সংখ্যা, শুরু উত্তর-দক্ষিণ সংঘাত

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১৬, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল আয়োজিত সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রবীণ আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কপিল সিব্বল এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে একে দক্ষিণী রাজ্যগুলোর ওপর রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উত্তর বনাম দক্ষিণ রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা
আসন পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটি মূলত জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। আর এখানেই দেখা দিয়েছে মূল বিতর্ক। কপিল সিব্বলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো লাভবান হলেও দক্ষিণী রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে।
- উত্তরপ্রদেশ: বর্তমানে এই রাজ্যে লোকসভা আসন ৮০টি, যা বেড়ে ১২০ হতে পারে।
- তামিলনাড়ু: বর্তমানের ৩৯টি আসন বেড়ে ৫৯ হতে পারে।
- পার্থক্য: বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মধ্যে আসনের ব্যবধান ৪১, কিন্তু পুনর্নির্ধারণের পর এই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৬১।
এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে উত্তর ভারতের প্রভাব আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে এবং দক্ষিণী রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব আনুপাতিক হারে কমে আসবে।
বিজেপির নির্বাচনী কৌশল ও বিরোধী সমালোচনা
কপিল সিব্বলের মতে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিজেপি এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রাজনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর ভারতের ২৩৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১২৭টিতে জয়ী হলেও দক্ষিণ ভারতের ১৩০টি আসনের মধ্যে মাত্র ২৯টিতে জয়ী হতে পেরেছে। সমালোচকদের দাবি, উত্তর ভারতে আসন বাড়িয়ে বিজেপি এমন এক সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে যেখানে দক্ষিণ ভারতের সমর্থন ছাড়াই তারা কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরতে পারে।
দক্ষিণী রাজ্যগুলোর ক্ষোভ ও স্ট্যালিনের হুঁশিয়ারি
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, যেসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, এই আসন বিন্যাস তাদের কার্যত শাস্তি দেওয়ার সমান। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, উত্তর ভারতের আধিপত্য বিস্তারের এই চেষ্টা তামিলনাড়ু তথা দক্ষিণ ভারত মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
নারী সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন কমিশনের ভূমিকা
এই প্রক্রিয়ায় ডিলিমিটেশন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কপিল সিব্বল। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জম্মু-কাশ্মীর ও আসামের উদাহরণ থেকে স্পষ্ট এই কমিশন মূলত সরকারি নিয়ন্ত্রণেই চলছে। এছাড়া নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই এই সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু আসন পুনর্নির্ধারণের দোহাই দিয়ে এটিকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একঝলকে
- লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হওয়ার সম্ভাবনা।
- ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বিলটি আসার কথা।
- উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে আসনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
- দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারানোর আশঙ্কা করছে।
- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সুফল পাওয়া রাজ্যগুলো বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে।
- ২০২৯ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে এই কৌশল বলে দাবি বিরোধীদের।