মধ্যরাতে ভিডিও কল ধরতেই স্ক্রিনে ফুটে উঠল নগ্ন রূপ! সাইবার প্রতারকদের নতুন ফাঁদে দিশেহারা নারী

মধ্যরাতে ভিডিও কল ধরতেই স্ক্রিনে ফুটে উঠল নগ্ন রূপ! সাইবার প্রতারকদের নতুন ফাঁদে দিশেহারা নারী

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধের নতুন নতুন কৌশল। সাধারণ মানুষের ভয় ও অসতর্কতাকে পুঁজি করে এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘সেক্সটরশন’ বা যৌন ব্ল্যাকমেইল চক্র। সম্প্রতি এক মহিলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সাইবার জগতের এই অন্ধকার দিকটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মাঝরাতে আসা একটি ভিডিও কল কীভাবে জীবনের বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।

মাঝরাতের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত

ঘটনাটি ঘটে রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে। একজন মহিলার ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিও কল আসে। জরুরি কোনো প্রয়োজন বা পরিচিত কেউ হতে পারে ভেবে তিনি কলটি গ্রহণ করেন। কিন্তু স্ক্রিনে যা ফুটে ওঠে তার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। ফোনের ওপাশে থাকা এক যুবক সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় অশ্লীল আচরণ করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত ও স্তম্ভিত হয়ে পড়েন ওই মহিলা।

সেক্সটরশন মাফিয়ার সুপরিকল্পিত ফাঁদ

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন অশ্লীল আচরণ নয় বরং এর পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী অপরাধচক্রের সুপরিকল্পিত ছক। তাদের কাজের পদ্ধতি সাধারণত নিম্নরূপ:

  • রেকর্ডিং ও কারসাজি: আপনি কল রিসিভ করা মাত্রই আপনার অজান্তে স্ক্রিন রেকর্ড করা হয়। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে সেই ভিডিওর সাথে নগ্ন দৃশ্য যুক্ত বা ‘মর্ফিং’ করা হয়।
  • ব্ল্যাকমেইলিংয়ের হুমকি: তৈরি করা সেই বিকৃত ভিডিওটি আপনার আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র।
  • ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ: সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল এবং মেসেজিং অ্যাপ থেকে ফোন নম্বর ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধীরা তাদের টার্গেট ঠিক করে।

সুরক্ষায় পুলিশের জরুরি নির্দেশনা

বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ প্রশাসন এবং বিশেষজ্ঞরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন:

  • অপরিচিত কল এড়িয়ে চলা: অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে ভিডিও কল আসলে তা গ্রহণ না করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
  • ক্যামেরা ঢেকে রাখা: যদি ভুলবশত কল রিসিভ হয়েও যায়, তবে ফোনের সামনের ক্যামেরা আঙুল বা কোনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন যাতে আপনার মুখ দেখা না যায়।
  • সাহসের সাথে মোকাবিলা: এমন পরিস্থিতির শিকার হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত সাইবার হেল্পলাইন নম্বর ‘১৯৩০’-এ কল করে অভিযোগ জানাতে হবে। এছাড়া সাইবার ক্রাইম পোর্টালে রিপোর্ট করাও অত্যন্ত জরুরি।

সামাজিক কর্মীদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা না বাড়ালে এই ধরণের অপরাধ প্রতিরোধ করা কঠিন। অসাধু ব্যক্তিদের পাতা ফাঁদ থেকে বাঁচতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

একঝলকে

  • রাত ১১টা ৩০ মিনিটে অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিও কলে নগ্নতা প্রদর্শন।
  • কল রিসিভ করা মাত্রই ব্যবহারকারীর ছবি ব্যবহার করে ‘মর্ফিং’ ভিডিও তৈরির আশঙ্কা।
  • সামাজিক সম্মানের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের লক্ষ্য বা ‘সেক্সটরশন’।
  • সুরক্ষার জন্য অপরিচিত ভিডিও কল এড়িয়ে চলা ও ক্যামেরা ঢেকে রাখার পরামর্শ।
  • সাইবার হেনস্তার শিকার হলে তৎক্ষণাৎ ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ বা অনলাইনে অভিযোগ করা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *