মেডিকেল কলেজে যেন নরকবাস! ছাত্রীদের সঙ্গে নোংরা ইয়ার্কি আর অধ্যাপকদের লালসা: বিস্ফোরক চিকিৎসক সৌম্যা সারিন

কেরালার কান্নুর আঞ্জারাক্কান্দি ডেন্টাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র নীতিন রাজের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার রেশ ধরে চিকিৎসাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ওপর চলা দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত নির্যাতন ও হেনস্থার ভয়াবহ সত্য সামনে এনেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর সৌম্য সারিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, কেন বছরের পর বছর ধরে মেডিক্যাল কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নরক হয়ে উঠছে।
অধ্যাপকদের বিকৃত আচরণ ও ডাবল মিনিং জোকস
ডক্টর সৌম্য সারিন প্রায় ২৫ বছর আগের নিজের এমবিবিএস জীবনের স্মৃতি চারণ করে জানান, পরিস্থিতি তখন থেকেই অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং দ্ব্যর্থবোধক (ডাবল মিনিং) জোকস বলা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
- সার্জারি রুমে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার সময় অধ্যাপকরা ছাত্রীদের সামনে অত্যন্ত অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করতেন।
- প্রতিবাদ করার সাহস কারও ছিল না, কারণ সরাসরি বিরোধিতা করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।
- সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে তিনি বর্তমানে ওই অধ্যাপকদের নাম প্রকাশ না করলেও, তাদের এই বিকৃত মানসিকতা আজও অপরিবর্তিত রয়েছে বলে দাবি করেন।
বর্ণবাদ ও শারীরিক গঠন নিয়ে উপহাস
শিক্ষিত সমাজে কেরালা অগ্রগামী দাবি করলেও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে জাতি, ধর্ম এবং শারীরিক গঠন নিয়ে চরম বৈষম্য বিদ্যমান। ডক্টর সারিনের মতে, শিক্ষার্থীদের গায়ের রং কালো হওয়া কিংবা শরীরিক গঠন (মোটা বা রোগা) নিয়ে উপহাস বা ‘বডি শেমিং’ করা অধ্যাপকদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার আঙিনায় এমন সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী মানসিকতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস চুরমার করে দিচ্ছে।
পরীক্ষার নম্বর যখন শোষণের হাতিয়ার
চিকিৎসা শিক্ষায় বিদ্যমান মূল্যায়ন পদ্ধতিই এই শোষণের মূল সুযোগ করে দিচ্ছে বলে মনে করেন ডক্টর সারিন। তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান দিক:
১. ইন্টারনাল মার্কসের ভয়: অধ্যাপকদের কথা না শুনলে বা তাদের অনৈতিক আবদার না মানলে ইন্টারনাল মার্কস কমিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
২. উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফেল: অনেক সময় বাইরের পরীক্ষকদের প্রভাবিত করে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও ফেল করিয়ে দেওয়া হয়।
৩. থিসিস আটকে রাখা: পিজি শিক্ষার্থীদের থিসিস পেপারে স্বাক্ষর না করে বছরের পর বছর ঘোরানো এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।
এই দমবন্ধ করা পরিবেশের কারণেই নীতিন রাজের মতো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ডক্টর সারিন শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন, এখন আর চুপ থাকার সময় নেই। পর্দার আড়ালে থাকা এসব অত্যাচারী অধ্যাপকদের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরি।
একঝলকে
- নীতিন রাজের আত্মহত্যায় চিকিৎসা শিক্ষার অন্ধকার দিক প্রকাশ্যে।
- নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অধ্যাপকদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অশ্লীল রসিকতা।
- জাতিগত বৈষম্য ও বডি শেমিংয়ের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
- ইন্টারনাল মার্কস ও থিসিস আটকে রেখে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ।
- বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং অধ্যাপকদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবি।