সংকটে মধ্যপ্রাচ্য: ধুঁকছে ভারতীয় কো ম্পা নিগুলো, এক ধাক্কায় ব্যবসা কমল ৪০%!

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতীয় কনজিউমার পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে এই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোর ব্যবসায়িক লেনদেন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। কেবল বিক্রি কমে যাওয়াই নয়, বরং পণ্য পরিবহনের খরচ আকাশছোঁয়া হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়িক মন্দার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোর সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে:
- ব্যবসায়িক ক্ষতি: মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সক্রিয় থাকা ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোর মোট আয়ের প্রায় ৫ থেকে ২০ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সামগ্রিক ব্যবসায় বড় ধস নেমেছে।
- পরিবহন খরচ বৃদ্ধি: কন্টেইনার শিপিং বা পণ্যবাহী জাহাজের ভাড়া প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কো ম্পা নিগুলোর অপারেশনাল খরচ বা পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
- চাহিদার অভাব: বিবা ফ্যাশনের মতো ব্র্যান্ডগুলোর দাবি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদের পর থেকে বিক্রি প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও আগ্রহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংকটের মুখে নামী কো ম্পা নিগুলো
ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসা পরিচালনা করা একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান এই পরিস্থিতির শিকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- খাদ্য ও পানীয়: ব্রিটানিয়া, পার্লে (রসনা), আইডিও ফ্রেশ ফুড, বিসলেরি এবং রিলায়েন্স কনজিউমার প্রোডাক্টস।
- ব্যক্তিগত যত্ন ও ফ্যাশন: গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস, ডাবর, ইমামি, ম্যারিকো এবং বিবা ফ্যাশন।
ডাবর ইন্ডিয়ার দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। সেখানে বর্তমানে তাদের ৫০০ জন কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যাদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান এখন উদ্বেগের বিষয়।
কৌশল পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কো ম্পা নিগুলো এখন তাদের বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। আইডিও ফ্রেশ ফুড-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজেক্টগুলো পুনর্মূল্যায়ন করছে। অনেক কো ম্পা নি ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প সাপ্লাই চেইন রুট খুঁজছে এবং অতিরিক্ত বিমা সুবিধা গ্রহণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্টক মজুত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোর জন্য আফ্রিকা ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
একঝলকে
- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোর ব্যবসা ৩০-৪০% কমেছে।
- শিপিং বা পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে ৪ থেকে ৫ গুণ।
- ডাবর, ব্রিটানিয়া এবং গোদরেজের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো ক্ষতিগ্রস্ত।
- অনেক কো ম্পা নি তাদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত বা পুনর্বিবেচনা করছে।
- সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিকল্প পথ ও অতিরিক্ত বিমার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।