বদলে যাচ্ছে নবাবের শহর মুর্শিদাবাদ! পর্যটকদের টানতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপহার দিলেন ফিরহাদ হাকিম

নিউজ ডেস্ক
ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ, যা একদা ছিল বাংলা-বিহার-ওড়িশার অবিসংবাদিত রাজধানী, সেই নবাবী শহরের মুকুটে আজ যুক্ত হলো নতুন দুটি পালক। ইতিহাসের সাক্ষী এই নগরীকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে এবং শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ অনুপ্রেরণায় জেলায় পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পর্যটনের নতুন দিগন্ত এবং আধুনিক গবেষণার মেলবন্ধন
এদিনের অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক কাটরা মসজিদের সন্নিকটে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে একটি দৃষ্টিনন্দন ও রাজকীয় ‘তোরণ’ বা গেটের শিলান্যাস করা হয়। এই তোরণটি নির্মিত হলে পর্যটকদের কাছে শহরের প্রবেশপথ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের গৌরবময় ইতিহাসকে বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে তুলে ধরতে এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে ‘মুর্শিদাবাদ হাজারদুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ও উৎকর্ষ গবেষণা কেন্দ্র’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই গবেষণা কেন্দ্রটি আগামী দিনে ইতিহাসপিপাসু ও গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চাঁদের হাট মুর্শিদাবাদে
এদিনের এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মন্ত্রীর পাশাপাশি মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ খলিলুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নবগ্রামের বিধায়ক কানাই মন্ডল, কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার (ডেভিড), জেলা পরিষদের কো-মেন্টর শাওনি সিংহ রায়, অল ইন্ডিয়া ইমাম মোয়াজ্জেম অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এবং মুর্শিদাবাদ পৌরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর।
সমগ্র অনুষ্ঠান চলাকালীন নিরাপত্তার খাতিরে মুর্শিদাবাদ থানার আইসি রাজা সরকারের নেতৃত্বে ছিল কড়া পুলিশি নজরদারি। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মুর্শিদাবাদের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও পর্যটন শিল্পে এক আমূল পরিবর্তন আসবে।
রাজনীতির ময়দানে দ্বৈরথ
সরকার যখন এই প্রকল্পকে উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে দেখছে, তখন বিরোধীরা এর সমালোচনায় সরব হয়েছে। মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই গোটা বিষয়টিকে ‘ভোটের চমক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই নির্বাচনের আগে এই ধরনের ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতি’ দেওয়া হচ্ছে।
পাল্টা যুক্তিতে শাসক শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী। হাজারদুয়ারি থেকে কাটরা মসজিদ—প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে পর্যটন পরিকাঠামো আরও উন্নত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার, এই নতুন তোরণ আর বিশ্ববিদ্যালয় মুর্শিদাবাদের মানচিত্রে কতটা জৌলুস ফেরাতে পারে।