২০২৬ নির্বাচনে কি উল্টে যাবে বাংলার তখত? তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে বিজেপির ভয়ংকর ব্লু-প্রিন্ট
কলকাতা ও জেলা ডেস্ক
আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। লোকসভা ভোটের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবার নিছক স্লোগান নয়, বরং গাণিতিক সমীকরণে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে চাইছে অমিত শাহের বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরীণ ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৬২টি ‘ক্যাটাগরি এ’ আসনে জয়ের প্রবল সম্ভাবনা দেখছে তারা।
টার্গেটে ৫৭টি ‘সুইং সিট’
তৃণমূলের শাসনকালকে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে বিজেপির প্রধান লক্ষ্য সেই ৫৭টি আসন, যেখানে ২০২১ সালে জয়ের ব্যবধান ছিল ৮,০০০ ভোটের কম। বিশেষ করে দাঁতন, কুলটি এবং ঘাটালের মতো ১৯টি আসন যেখানে ব্যবধান ৩,০০০-এর নিচে, সেখানে সামান্য ভোট শতাংশের পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
শহরাঞ্চলে শাসকদলের অস্বস্তি
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের তথ্য বলছে, কলকাতা ও সংলগ্ন পুরসভা এলাকাগুলোতে তৃণমূলের একাধিপত্যে ফাটল ধরেছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর এবং উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরে শাসকদলের লিড আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বারাসাত, হাবরা ও বনগাঁর মতো এলাকায় রেশন ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে থাবা বসাতে মরিয়া বিজেপি।
মতুয়া ভোট ও উত্তরবঙ্গ কৌশল
বিজেপির জয়ের লক্ষ্যে মতুয়া ভোট ব্যাংক (প্রায় ৩০টি আসন) এবং উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএএ (CAA) ইস্যুকে সামনে রেখে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও কোচবিহারে ভালো ফলের আশায় রয়েছে তারা। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া পুনরুদ্ধার করাও দলের অন্যতম লক্ষ্য।
শুভেন্দু-সুকান্ত-দিলীপের ত্রিফলা রণনীতি
বিজেপি এবার ‘কলিজিয়াম মডেল’ অনুসরণ করে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষকে আঞ্চলিক দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বিতর্কিত নাম বাদ দেওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়াকে প্রধান হাতিয়ার করছে দল। এই প্রান্তিক ও নগরকেন্দ্রিক আসনগুলোতে বিজেপি যদি ১০০-র ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারে, তবে নবান্নের দখল নেওয়া তাদের জন্য সময়ের অপেক্ষা হতে পারে।