১ এপ্রিল থেকে বদলে যাচ্ছে আপনার বেতন কাঠামো! হাতে টাকা কম এলেও ভবিষ্যতের সঞ্চয় হবে দ্বিগুণ

নিউজ ডেস্ক ।। আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে নতুন লেবার কোড এবং ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫। এর ফলে বেসরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন স্লিপে আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। নতুন নিয়মে আপনার ইন-হ্যান্ড বা হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ কমলেও অবসরের সময় মিলবে মোটা অঙ্কের টাকা।
বেতনের নতুন সমীকরণ
নতুন আইন অনুযায়ী, একজন কর্মচারীর মূল বেতন বা বেসিক স্যালারি তার মোট বেতনের (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। বর্তমানে অনেক কো ম্পা নি ট্যাক্স বাঁচাতে বেসিক স্যালারি কমিয়ে হাউস রেন্ট (HRA) বা অন্যান্য অ্যালাউন্স বাড়িয়ে রাখে। কিন্তু নতুন নিয়মে কোনোভাবেই অ্যালাউন্স মোট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
হাতে টাকা কেন কমবে?
বেসিক স্যালারি বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে পিএফ (PF) এবং গ্র্যাচুইটির ওপর। যেহেতু এই দুটি খাতের টাকা মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে কাটা হয়, তাই বেসিক বাড়লে পিএফ বাবদ আপনার বেতন থেকে বেশি টাকা কাটা যাবে। ফলে মাস শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকা টাকার পরিমাণ বা টেক-হোম স্যালারি কিছুটা হ্রাস পাবে।
দীর্ঘমেয়াদী লাভ ও বিশেষ সুবিধা
সাময়িকভাবে হাতে পাওয়া টাকা কমলেও এর সুফল পাওয়া যাবে ভবিষ্যতে:
- শক্তিশালী রিটায়ারমেন্ট ফান্ড: পিএফ বেশি কাটায় অবসরের সময় এককালীন অনেক বেশি টাকা হাতে আসবে।
- বেশি গ্র্যাচুইটি: নতুন নিয়ম অনুযায়ী ফিক্সড টার্ম কর্মচারীরা এখন মাত্র ১ বছর কাজ করলেই গ্র্যাচুইটি পাবেন, যার জন্য আগে ৫ বছর অপেক্ষা করতে হতো।
- ওভারটাইমে দ্বিগুণ আয়: সপ্তাহে কাজের সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা নির্ধারিত করা হয়েছে। এর বেশি কাজ করলে কো ম্পা নিকে দ্বিগুণ হারে টাকা দিতে হবে।
- দ্রুত ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সেটলমেন্ট: চাকরি ছাড়ার মাত্র ২ দিনের মধ্যে কো ম্পা নিকে বকেয়া সমস্ত টাকা (F&F) মিটিয়ে দিতে হবে। আগে এর জন্য ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগত।
কর কাঠামোয় প্রভাব
বেসিক স্যালারি বাড়লে যারা পুরনো ট্যাক্স কাঠামো (Old Tax Regime) মেনে চলেন, তাদের ক্ষেত্রে এইচআরএ (HRA) ছাড়ের হিসেবে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নতুন ট্যাক্স কাঠামো গ্রহণ করলে এই প্রভাব তুলনামূলক কম হবে। মূলত বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন যথারীতি পে-কমিশন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন এই শ্রম আইন চাকুরিজীবীদের বর্তমান খরচে কিছুটা রাশ টানলেও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।