২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন আর অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন! আসামে ভোটের আগে হিমন্তের মাস্টারস্ট্রোক

গুয়াহাটি: আসামে ফের কি বাজিমাত করবে বিজেপি? বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রকাশিত দলের ‘সংকল্প পত্রে’ সেই চেনা হিন্দুত্বের অস্ত্রেই শান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। উন্নয়নের খতিয়ানের চেয়েও এবার বিজেপির তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বিতর্কিত ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিসে বাংলাদেশিদের রাজ্যছাড়া করা হবে।
মঙ্গলবার নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৫০ সালের পুরনো ‘ইমিগ্র্যান্টস এক্সপালশন অ্যাক্ট’ কার্যকর করার হুঁশিয়ারি। এই আইন প্রয়োগ করে জেলাশাসকরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মাত্র এক দিনেই আসাম থেকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা পাবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের ফিরিস্তির চেয়েও অনুপ্রবেশকারী এবং ‘মিয়া মুসলিম’ ইস্যুকে সামনে রেখেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির এই সংকল্প পত্রে অনুপ্রবেশ ছাড়াও রয়েছে আরও কিছু বড় ঘোষণা। হিমন্ত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ক্ষমতায় ফিরলে আসামে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালু করা হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২ লক্ষ সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বন্যা মোকাবিলায় মাস্টারপ্ল্যান এবং হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডাকে ঢাল করে মোট ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।
আগামী ৯ এপ্রিল আসামে বিধানসভা ভোট। ২০১৬ সাল থেকে টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকা বিজেপি কি এবারও এই পুরনো অস্ত্রে বাজিমাত করতে পারবে? বিরোধীরা অবশ্য এই ইস্তাহারকে হিমন্ত সরকারের ‘ব্যর্থতার দলিল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাদের দাবি, গত এক দশকের কাজের খতিয়ান দেওয়ার বদলে মেরুকরণের রাজনীতিতেই ভরসা রাখছে শাসক দল। সব মিলিয়ে আসামের ভোট ময়দানে এখন তপ্ত হাওয়া।