কল্যাণী এইমসে ফিরল রোগী, অসাধ্য সাধন করে বিশ্বনাথকে নতুন জীবন দিল জেএনএম হাসপাতাল

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা বিশ্বনাথ দাস এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ডান চোখে ও মুখে গুরুতর চোট পান। প্রাথমিকভাবে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে কল্যাণী এইমসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এই হাসপাতালে তিন মাস ধরে ঘুরেও উপযুক্ত চিকিৎসা মেলেনি। কখনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, আবার কখনও পরিকাঠামোর দোহাই দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের খরচও দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রোগীর পরিবারের।
অবশেষে কোনো উপায় না দেখে বিশ্বনাথকে পুনরায় কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানকার ইএনটি ও ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসকরা দ্রুত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেন। প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ ও অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারের পর বিশ্বনাথের ক্ষতিগ্রস্ত চোখ ও মুখমণ্ডল পুনর্গঠন করা হয়। চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়েছে দুর্মূল্য টাইটেনিয়াম প্লেট, যা রাজ্য সরকারের সহায়তায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ডেন্টাল বিভাগের ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ডাঃ কুশল চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই অসাধ্য সাধন করেন ডাঃ প্রোটন ঘোষ, আকাশ অধিকারী ও অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ পাল। চিকিৎসকদের মতে, দুর্ঘটনার তিন মাস পর এমন অস্ত্রোপচার করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে বিশ্বনাথ সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের অনুমান আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। এই অভাবনীয় সাফল্যে জেএনএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে রোগীর পরিবার, পাশাপাশি কল্যাণী এইমসের পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।