ইরান যুদ্ধে ব্যাকফুটে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাতটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা পাল্টে দিচ্ছে ভূ-রাজনীতি

ইরানকে কোণঠাসা করার হুঙ্কার দিয়ে যুদ্ধ শুরু করলেও মাস পেরোতেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। কোনো সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ না থাকায় ট্রাম্পের কৌশলগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত সাতটি প্রধান ক্ষেত্রে মার্কিন রণকৌশল ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রথমত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণ তেহরানের হাতে। আগে যেখানে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজগুলো অবাধে চলাচল করত, এখন সেখানে ইরানের আধিপত্য বজায় রয়েছে। এমনকি এই জলপথে যাতায়াতের জন্য ইরান কর আদায়ের ঘোষণাও দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা অন্তত ১৩টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পেন্টাগনকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
তৃতীয় ব্যর্থতাটি হলো পরমাণু চুক্তি নিয়ে। ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে আসায় ইরান এখন আন্তর্জাতিক তদারকি ছাড়াই তাদের পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। চতুর্থত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করতে চাইলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলার থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় ইরানের কোষাগারে উল্টো অর্থের প্রবাহ বেড়েছে।
পঞ্চমত, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলেও ট্রাম্প এখন তেহরানের সাথে আলোচনার পথ খুঁজছেন। ষষ্ঠত, ইরানের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাবের সামনে আমেরিকা এখন অনেকটা নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
সর্বশেষ, দুবাই ও সৌদি আরবের মতো নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোর ভাবমূর্তি এখন হুমকির মুখে। ইরানের হামলার পর এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও পর্যটন খাতে বড় ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ পেতে ট্রাম্প এখন তেহরানের সাথে আপস বা নতুন কোনো চুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। অন্যথায়, আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ফাঁদে আটকে যেতে পারে ওয়াশিংটন।