ইরানের বৃহত্তম সেতুতে মার্কিন বিমান হামলা, সব শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

ইরানের রাজধানী তেহরান ও কারাজের সংযোগকারী বৃহত্তম বি-ওয়ান সেতুতে বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিধ্বস্ত সেতুটি দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং এলাকাটি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এই বিধ্বংসী হামলায় প্রাথমিকভাবে অন্তত দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তেহরানের উচিত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যদি ইরান তাদের বর্তমান নীতি পরিবর্তন না করে এবং দ্রুত আলোচনায় না বসে, তবে দেশটির বেসামরিক পরিকাঠামো আরও বড় ধরনের ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা ইরানকে আন্তর্জাতিক স্তরে চরম চাপের মুখে ফেলেছে।
যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল ইরানের হুমকি অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে, তবে তেহরান এই হামলার পালটা জবাব দিতে দেরি করেনি। বৃহস্পতিবারই তারা ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেহরানের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপ সত্ত্বেও তারা মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও হারায়নি।
এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে নতুন মোড় এসেছে। ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার আগে পর্যন্ত এই প্রণালীটি উন্মুক্ত ছিল, যা বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ তেল বাণিজ্যের প্রধান পথ। বর্তমানে এই রুটটি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটেনসহ প্রায় তিন ডজন দেশ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার বিষয়ে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য যে, এর আগে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের একজন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী নিহত হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পালটা হামলার প্রেক্ষাপটে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।