তৃণমূল নেতাদের পাহাড়প্রমাণ নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ কমিশন, রাজ্যের ডিজিকে তলব ও বিডিও সাসপেন্ড

তৃণমূল নেতাদের পাহাড়প্রমাণ নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ কমিশন, রাজ্যের ডিজিকে তলব ও বিডিও সাসপেন্ড

রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী দামামা বাজার আগেই শাসকদলের নেতা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের ৯৭৬ জন নেতা ও সমর্থকের জন্য মোতায়েন করা ২,১৮৫ জন পুলিশকর্মীর ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। কেন এত বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনীকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দলের নেতাদের নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্তকে কড়া চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই তৃণমূলের ৮৩২ জন নেতা এবং ১৪৪ জন সমর্থককে রাজ্য সরকার বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করেছে। কমিশনের যুক্তি, নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোট পরিচালনার কাজে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজের চাপ যেখানে আকাশচুম্বী, সেখানে কেন দুই হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মীকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত রাখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য রাজ্য পুলিশ প্রধানকে আগামী দুই থেকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখে অবিলম্বে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে হবে। কোন মাপকাঠিতে এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং তা বর্তমান পরিস্থিতিতে কতটা জরুরি, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে ডিজিপির কাছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে যেখানে অতিরিক্ত বাহিনীর প্রয়োজন, সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মীর মোতায়েন নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে কমিশন।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সরকারি পদে আসীন থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। কমিশনের কাছে এই সংক্রান্ত অকাট্য প্রমাণ আসার পরেই ত্বরিত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন অবিলম্বে জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাঁর জায়গায় নতুন কোনো দক্ষ আধিকারিককে নিয়োগ করা হয়।

কমিশন আরও জানিয়েছে যে, এই সাসপেনশন এবং নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগামী শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্বাচনের আগে প্রশাসনের স্তরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব যে বরদাস্ত করা হবে না, বিডিও-র এই বহিষ্কারের মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। একই সাথে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার খতিয়ান চাওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার বিষয়, ডিজি তাঁর রিপোর্টে কমিশনের প্রশ্নের কী উত্তর দেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো কাটছাঁট করা হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *