গৌরব গগৈয়ের সমর্থনে পাকিস্তানি মিডিয়া হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় আসামের রাজনীতি

আসামে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। এর মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি দাবি করেন যে, কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের হয়ে ওপার বাংলায় প্রচার চালাচ্ছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম। হিমন্তের এই মন্তব্যের পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসামের রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত টক শো এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সেই সব অনুষ্ঠানে গৌরব গগৈকে পরিকল্পিতভাবে ‘নির্দোষ’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং তাঁকে ক্লিনচিট দেওয়া হচ্ছে। হিমন্ত প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম আসামের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে এতটা সক্রিয় বা আগ্রহী হবে? তাঁর মতে, এটি একটি গভীর এবং শক্তিশালী ‘পাকিস্তান-যোগ’-এরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বিস্ফোরক এই অভিযোগের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ‘লেফট-লিবারেল গোষ্ঠী’র বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এই গোষ্ঠীটি সুপরিকল্পিতভাবে সনাতন ধর্মকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী আবেগকে উসকে দিতেই হিমন্ত এই রণকৌশল গ্রহণ করেছেন। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি কোনো রাখঢাক না রেখেই পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সাম্প্রতিক আসাম সফরকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। হিমন্তের মতে, এই ভিভিআইপি সফরগুলো আসলে কংগ্রেসের আত্মবিশ্বাসের অভাবকেই প্রকট করে তুলছে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে তাঁরা এই নির্বাচনে পরাজিত হতে চলেছেন। আর সেই হার বাঁচাতেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা তড়িঘড়ি একাধিক জনসভা করে চলে গিয়েছেন।
অন্যদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকেও তীব্র ভাষায় নিশানা করেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, নির্বাচনের সময় বিরোধীরা যতই ভিন্ন স্লোগান তুলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ফলাফলের দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জয়ধ্বনিই শোনা যাবে। রাজ্যজুড়ে বিজেপির আধিপত্য বজায় থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবারের লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। প্রতিটি দলই ভোটারদের মন জয়ে চূড়ান্ত আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গৌরব গগৈকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের এই তথাকথিত যোগসূত্র আগামী দিনে আসামের ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।