শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ অফিসারকে সরানোর দাবিতে সোচ্চার তৃণমূল

শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ অফিসারকে সরানোর দাবিতে সোচ্চার তৃণমূল

ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়কে অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের কাছে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল এই মর্মে স্মারকলিপি জমা দেয়। শাসকদলের অভিযোগ, বর্তমান রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ফলে তাঁর অধীনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্ভব নয় বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পেশ করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুরজিৎ রায় যখন নন্দীগ্রামের বিডিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বিশেষ সখ্যতা ছিল। এমনকি সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে বিজেপি নেতার হয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমন একজনকে ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে এই ধরণের বিতর্কিত আধিকারিককে নিয়োগ করা বড়সড় ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। এতে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরণের পক্ষপাতমূলক আচরণ রুখতে সুরজিৎ রায়কে দ্রুত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।

কমিশনের কাছে জমা দেওয়া পত্রে তৃণমূল আরও উল্লেখ করেছে যে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। কোনো বিশেষ প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ আধিকারিক যদি ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন, তবে তা ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলঙ্কমুক্ত রাখাই এখন তৃণমূলের মূল লক্ষ্য।

ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে প্রশাসনিক রদবদলের এই দাবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূলের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশন ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *