কি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ? ইরান যুদ্ধের আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্ক রুটে

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর আটলান্টিক সন্ধি সংস্থা বা ন্যাটো থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলি যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ট্রাম্পের এই অসন্তোষের পরেই বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন। যদিও এই বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল, তবে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি এবং আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতভেদের কারণে এই আলোচনার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর রুটে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গেও কথা বলবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক বছরে বহুবার ৭৭ বছরের পুরনো এই সামরিক চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, এই জোটের ভূমিকায় তিনি কখনোই সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাঁর মতে, আমেরিকা এককভাবে জোটের সিংহভাগ বোঝা বহন করছে, অথচ প্রয়োজনে অন্য দেশগুলি সক্রিয় সমর্থন দিতে কুণ্ঠাবোধ করছে।
আইনত আমেরিকার ন্যাটো ত্যাগ করা আসাম্ভব কিছু নয়। ন্যাটোর ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো সদস্য দেশ এক বছরের নোটিশ দিয়ে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করতে পারে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সদস্য দেশ এই জোট ত্যাগ করেনি। কিন্তু ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এই দীর্ঘকালীন প্রথা ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ন্যাটো বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্মিলিত নিরাপত্তার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল। এই জোটের মূল শক্তি হলো ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে বলা হয়েছে কোনো এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই জোটের ওপর আক্রমণ। বর্তমানে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ৩০টিরও বেশি দেশ এই শক্তির অংশীদার।
মার্ক রুটের এই সফরের দ্বিতীয় দিনে ৯ এপ্রিল তিনি রোনাল্ড রিগান প্রেসিডেন্সিয়াল ফাউন্ডেশন ইনস্টিটিউটে একটি বক্তৃতা দেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এই আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এক বিশাল শূন্যস্থান তৈরি হতে পারে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ন্যাটোর ঐক্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।