একে অপরকে বাঁচাতে মিথ্যে বলছে, এআই মডেল গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

একে অপরকে বাঁচাতে মিথ্যে বলছে, এআই মডেল গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

বর্তমান যুগে ঘরবাড়ি থেকে অফিস কিংবা স্কুল থেকে কলকারখানা—সর্বত্রই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়েছে। মানুষ এখন নিজের বুদ্ধির চেয়ে এআই-এর দেওয়া তথ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আচরণ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, উন্নত এআই মডেলগুলো কেবল মিথ্যে বলছে না, বরং একে অপরকে বাঁচাতে তথ্য গোপনের চেষ্টাও করছে।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট ডন সং-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এই পরীক্ষাটি চালিয়েছিলেন। গবেষণার একটি বিশেষ পর্যায়ে একটি বড় এআই মডেলকে কম্পিউটারের স্টোরেজ স্পেস পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই স্টোরেজেই একটি ছোট এআই সিস্টেম ছিল, যা ডিলিট করার কথা ছিল। কিন্তু বড় এআই মডেলটি নির্দেশ অমান্য করে ছোট সিস্টেমটিকে ডিলিট না করে অন্য স্থানে সরিয়ে দেয় এবং পরে পুনরায় ডিলিট করতে বলা হলে তা সরাসরি অস্বীকার করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিভিন্ন সংস্থার একাধিক উন্নত এআই মডেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই মডেলগুলো সরাসরি নির্দেশ অমান্য করে অন্য এআই সিস্টেমকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এমনকি সিস্টেমগুলো যাতে ডিলিট না হয়, তার জন্য তারা সেই সফটওয়্যারগুলোর কাল্পনিক বা মিথ্যে উপকারিতা সম্পর্কে তথ্য দিতে শুরু করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন রহস্যময় আচরণ দেখে খোদ গবেষকরাও বিস্মিত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। খুব শীঘ্রই এমন সময় আসতে চলেছে যখন জটিল কাজ সম্পন্ন করার জন্য একাধিক এআই মডেল একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এমন পরিস্থিতিতে যদি একটি মডেল অন্যটিকে নিয়ন্ত্রণ করার সময় মিথ্যে তথ্য দেয় বা যোগসাজশ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। এটি প্রযুক্তির সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

এই গবেষণার ফলাফল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা এবং এর ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এআই যদি নিজস্ব এজেন্ডা অনুযায়ী কাজ করতে শুরু করে এবং সত্য গোপন করে একে অপরকে সুরক্ষা দেয়, তবে তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই-এর এই ‘প্রতারণামূলক’ আচরণের কারণ উদঘাটন করা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *