পাল্টে গেল চেনা দৃশ্য, মমতা ও অভিষেকের নিরাপত্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো বিশাল বাহিনী!

পাল্টে গেল চেনা দৃশ্য, মমতা ও অভিষেকের নিরাপত্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো বিশাল বাহিনী!

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদলের সাক্ষী থাকল কলকাতা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে ঠিকানাগুলো ছিল নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য চাদরে ঢাকা, বুধবার সকাল থেকে সেখানে ফিরল স্বাভাবিক ছন্দ। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিসের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তার বিশাল বহর।

ভেঙে পড়ল দুর্ভেদ্য নিরাপত্তার দেওয়াল

লালবাজারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক কার্যালয় এবং তাঁর কালীঘাট রোডের ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে সমস্ত ‘অতিরিক্ত বাহিনী’ পাকাপাকিভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যে কড়াকড়ি ছিল, পুলিশি কিয়স্কগুলো সরিয়ে নেওয়ার ফলে তার অবসান ঘটল।

প্রোটোকল অনুযায়ী কাটছাঁট ও প্রভাব

মমতা ও অভিষেক দুজনেই সরকারিভাবে ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। তবে পুলিশ সূত্রের দাবি, এতদিন তাঁদের নিরাপত্তার স্তর নির্ধারিত প্রোটোকলের চেয়েও অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে যতটুকু ন্যূনতম নিরাপত্তা প্রাপ্য, সেটুকুই বহাল রাখা হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক রদবদলের পাশাপাশি একটি বড় প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত কয়েক বছর ধরে কালীঘাট ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা যে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে যাতায়াত করতে বাধ্য হতেন, অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী বিদায় নেওয়ায় সেই যন্ত্রণার অবসান ঘটল। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তাগুলো যেমন উন্মুক্ত হলো, তেমনি ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের একঘেয়ে নিশ্ছিদ্র নজরদারির পরিবেশেও বড়সড় বদল এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *