১৫ দিনের জন্য বিয়ের অদ্ভুত প্রথা! বিচ্ছেদ বা খোরপোশের ঝামেলা ছাড়াই মিলছে জীবনসঙ্গী

১৫ দিনের জন্য বিয়ের অদ্ভুত প্রথা! বিচ্ছেদ বা খোরপোশের ঝামেলা ছাড়াই মিলছে জীবনসঙ্গী

ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু গ্রামে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত রয়েছে এক বিতর্কিত ও বিচিত্র প্রথা। যেখানে মহিলারা পর্যটকদের সঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য চুক্তিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই ব্যবস্থায় বিচ্ছেদ বা খोरপোশের মতো কোনো আইনি জটিলতা নেই। এই প্রথাটি পর্যটন মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়ভাবে একে ‘নিকাহ মুতাহ’ বা ‘প্লেজার ম্যারেজ’ বলা হয়। এই ব্যবস্থায় একজন পুরুষ তার পছন্দমতো মহিলার সাথে ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করতে পারেন। পর্যটকরা যখন ওই গ্রাম ত্যাগ করেন, তখন বিয়ের চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এই পদ্ধতিতে বছরে যত খুশি বিয়ে করার সুযোগ থাকে।

মূলত চরম দারিদ্র্যের কারণেই অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের এই পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য করে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেক দরিদ্র পরিবারের মহিলারা ঘর খরচ চালাতে এবং জীবনধারণের জন্য এই পথ বেছে নেন। পর্যটকরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করেন এবং বদলে ওই মহিলাকে পারিশ্রমিক দেন।

এই ধরনের প্রতিটি বিয়ের বিনিময়ে ওই মহিলারা সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পেয়ে থাকেন। পর্যটকরা ইন্দোনেশিয়ায় ঘুরতে এসে স্থানীয়দের বাড়িতেই এই অস্থায়ী সংসার পাতেন। পর্যটকদের প্রস্থান মানেই সংসারের সমাপ্তি, যেখানে নারী ও পুরুষের সম্পর্কের ভিত্তি থাকে কেবল নগদ অর্থ ও স্বল্পকালীন চুক্তি।

বিশ্বজুড়ে বিবাহকে একটি পবিত্র ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন হিসেবে দেখা হলেও ইন্দোনেশিয়ার এই বিশেষ অঞ্চলগুলোতে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে পর্যটকের থাকার মেয়াদের ওপর। এই প্রথাটি কেবল স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও বেঁচে থাকার লড়াই।

ইন্দোনেশিয়ার এই ‘প্লেজার ম্যারেজ’ বা অস্থায়ী বিয়ের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। একদিকে পর্যটকরা একে বিনোদনের অংশ হিসেবে দেখলেও, অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও সমাজ সচেতন মানুষরা একে মহিলাদের মর্যাদার হানি হিসেবেই বিবেচনা করছেন। মূলত পর্যটনকেন্দ্রিক এই অর্থনীতি স্থানীয় নারীদের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *