বঙ্গে ভোটপ্রচারে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি রাজনাথের, তৃণমূলকেও কড়া আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

বঙ্গে ভোটপ্রচারে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি রাজনাথের, তৃণমূলকেও কড়া আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

আজ, মঙ্গলবার বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে একযোগে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদিন উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। বাদ্যযন্ত্র ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে রাজনাথ সিং সরাসরি পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দিলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের ‘কলকাতায় হামলার’ হুমকির প্রেক্ষিতে এদিন পালটা জবাব দেন রাজনাথ। তিনি ৫৫ বছর আগের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করলে এবার পাকিস্তান কত টুকরোয় ভাগ হবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। শত্রুদেশের যেকোনো উস্কানির বিরুদ্ধে ভারত যে কঠোর অবস্থানে অনড়, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী এদিন এরাজ্যের তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “তৃণমূল যাবে, বিজেপি আসবে—বাংলা এবার পদ্মফুলই চায়।” তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বলেন, তিনবার ক্ষমতায় থাকলেও রাজ্যের উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং শাসকদলের দুর্নীতির কারণে রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগ থমকে রয়েছে। তৃণমূলের শাসনামলে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং কর্মসংস্থানের অভাবে সাধারণ মানুষ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাজনাথ সিংয়ের দাবি, বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতন এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। রাজ্যের মানুষ বর্তমান অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। শিল্প ও কর্মসংস্থানের পথে প্রধান বাধা হিসেবে শাসকদলের সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতিকে দায়ী করে তিনি ভোটারদের কাছে বিজেপিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। বঙ্গে ভোটপ্রচারের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজনাথের জোড়া আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *