শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে বিরাট পদক্ষেপ, নবান্নের শুরু তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া

রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ প্রদান নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন অবসানের পথে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতর এবং অর্থ দফতর যৌথভাবে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে বকেয়া ডিএ মেটানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একধাপ এগিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল বর্তমান কর্মরত শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীরাই নন, এই তালিকার আওতায় থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও। ইতিমধ্যে সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাদের অধীনে থাকা কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ দফতরের এই সক্রিয়তা দেখে মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই ডিএ প্রদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বা ‘ম্যাচিং অর্ডার’ জারি হতে পারে।
এবারের নির্দেশিকায় রাজ্য সরকার মূলত ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়কালের হিসেব চেয়ে পাঠিয়েছে। ওই চার বছরে কোন কর্মী বা পেনশনভোগী কত টাকা বকেয়া পাবেন, তার চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার বা ডিডিও-দের মাধ্যমে এই তথ্যগুলি যাচাই করা হবে। সার্ভিস বুক এবং ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি তথ্য নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে মৃত কর্মী ও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থ প্রদানের জন্য পৃথক একটি মেকানিজম বা পদ্ধতি ঘোষণা করেছে অর্থ দফতরের পেনশন শাখা। যারা এই বকেয়া দাবি করতে ইচ্ছুক, তাদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (০৩৩-২২৫৩৫৪১৭) এবং ইমেল আইডি (ifms-wb@gov.in) চালু করা হয়েছে। এর ফলে মৃত কর্মীদের পরিবারও আইনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য অর্থ পেতে পারবেন।
প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক বছর ধরে ডিএ নিয়ে রাজ্য ও সরকারি কর্মীদের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল, তথ্যের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া তার ইতিবাচক সমাধান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর অর্থ দফতর চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দিলেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে।
রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী এই খবরের পর আশার আলো দেখছেন। নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই নবান্নের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, কত দ্রুত এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করে রাজ্য সরকার চূড়ান্ত পেমেন্ট অর্ডারের দিকে এগোয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে আর খুব বেশি দেরি নেই।