নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘চরম মিথ্যাচারে’র অভিযোগ তৃণমূলের, ভোটার তালিকায় কারচুপির দাবিতে নজিরবিহীন সংঘাত

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘চরম মিথ্যাচারে’র অভিযোগ তৃণমূলের, ভোটার তালিকায় কারচুপির দাবিতে নজিরবিহীন সংঘাত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন ও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বড়সড় বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন এই সাক্ষাৎকে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ কমিশনের এই দাবিকে ‘চরম মিথ্যাচার’ এবং ‘পুরোপুরি অসত্য’ বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের সদর দফতরে তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত আসাম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁদের ‘গেট লস্ট’ পর্যন্ত বলেছেন।

পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কমিশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শাসক দলের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭.৬৬ কোটি, যা সংশোধনের পর কমে দাঁড়িয়েছে ৭.০৪ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রায় ৬১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে।

এই নজিরবিহীন সংঘাতে তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা তপন মহাপাত্রকে প্রকাশ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের স্পষ্ট দাবি, সাংবিধানিক রক্ষাকবচ ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা বিজেপির ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে কমিশন বনাম তৃণমূলের এই দ্বন্দ্ব এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *