মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির আবহে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল আরবিআই, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কড়া সতর্কতা
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার দিনেই দেশের নতুন মুদ্রানীতি প্রকাশ করল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। বুধবার মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক শেষে গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র ঘোষণা করেছেন যে, রেপো রেট আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ফলে ৫.২৫ শতাংশেই স্থির থাকছে এই সুদের হার। এর জেরে বাড়ি বা গাড়ির ঋণের ক্ষেত্রে আপাতত ইএমআই বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ ডিসেম্বরের পর থেকে এই হারে আর কোনো বদল আনা হয়নি।
নতুন আর্থিক বছরের (২০২৬-২৭) প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সুদের হার না বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের বার্তা দিয়েছেন গভর্নর। আরবিআই-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে যথাক্রমে ৪.৪ শতাংশ এবং ৫.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বছরের শেষ দিকে এই হার কিছুটা কমে ৪.৭ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মধ্যবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।
গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র জানান, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি করতে গিয়ে বাড়তি খরচ হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির চলতি হিসাবের ঘাটতিকে প্রভাবিত করছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সংঘর্ষবিরতি বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি জিডিপি বা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাসও দিয়েছে আরবিআই। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের অনুমান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম চার ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৬.৮ শতাংশ, ৬.৭ শতাংশ, ৭ শতাংশ এবং ৭.২ শতাংশ থাকতে পারে। গত অর্থবর্ষে মোট চারবার রেপো রেট কমিয়ে আমজনতাকে স্বস্তি দিলেও, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার সাবধানী পথে হাঁটল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।