কোচবিহার দক্ষিণে জেনারেল অবজারভার অপসারণ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ

কোচবিহার দক্ষিণে জেনারেল অবজারভার অপসারণ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ

কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী উত্তেজনা তুঙ্গে। অবাধ ও স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়ার স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখন বড়সড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। জানা গিয়েছে, কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালীন জেনারেল অবজারভার অনুরাগ যাদবকে আচমকা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ সংখ্যা সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের এই ধরনের কর্মকাণ্ড দলের কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, যথাযথ অনুমতি নিয়ে লাগানো দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন কমিশন খুলে ফেলছে। অবজারভারদের ক্রমাগত চাপে কর্মীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে কমিশন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অভিজিৎ দে ভৌমিক আরও অভিযোগ করেন যে, ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে আইএএস (IAS) অফিসারদের ধমক দেওয়া বা চাপ সৃষ্টি করার মতো পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই আচরণকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। তাঁর মতে, কমিশনের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার জন্য নয়, বরং নির্বাচনী পরিবেশকে অকারণে উত্তপ্ত করে তোলার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

তৃণমূল প্রার্থীর বয়ান অনুযায়ী, নির্বাচনের এই আবহে কমিশন নানা অছিলায় সাধারণ ভোটার এবং দলীয় কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে সংশয় দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে কোচবিহার দক্ষিণে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই অপসারণ ও অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *