২০২৬ নির্বাচন ও কলকাতার আশপাশে বিজেপির নীরবতা এবং নয়া কৌশল

২০২৬ নির্বাচন ও কলকাতার আশপাশে বিজেপির নীরবতা এবং নয়া কৌশল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হলেও কলকাতার আশপাশের বেশ কিছু আসনে বিজেপির প্রচারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে তৃণমূল ও বামপন্থীদের দেওয়াল লিখন এবং মিছিলে সরগরম রাজপথ, সেখানে গেরুয়া শিবির অনেকটা ‘চুপচাপ’। বড় কোনো পোস্টার বা ব্যানারের চেয়ে তাদের উপস্থিতি এখন বেশি প্রকট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

নীরবতার নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ

কলকাতার শহরতলি এলাকায় বিজেপির এই দৃশ্যত নীরবতার পেছনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করছেন:

  • ডিজিটাল টার্গেট: শহুরে ও আধা-শহুরে ভোটাররা বর্তমানে প্রথাগত প্রচারের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সক্রিয়। বিজেপি এই ভোটারদের ধরতে ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও হোয়াটসঅ্যাপে জোরদার প্রচার চালাচ্ছে।
  • সাংগঠনিক দুর্বলতা: কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় বিজেপির বুথ স্তরের সংগঠন প্রত্যাশিত মানে নেই। ফলে রাস্তায় নেমে শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে পর্দার আড়াল থেকে জনমত গঠনের চেষ্টা চলছে।
  • প্রার্থী নিয়ে অনীহা: কোনো কোনো আসনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রার্থী পছন্দ নিয়ে অন্দরে চাপা অসন্তোষ থাকতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি মাঠের প্রচারে পড়ছে।

বিজেপির পাল্টা যুক্তি

বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই নীরবতাকে ‘কৌশলগত’ হিসেবে দাবি করছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট পরিচালনার রণনীতি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বুথমুখী করতে পারলেই ফল ইতিবাচক হবে বলে তারা আশাবাদী। তবে রাজপথে বামেদের (সিপিআইএম) ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একঝলকে

  • ঘটনা: কলকাতার আশপাশের আসনে বিজেপির রাজপথের প্রচার স্তিমিত।
  • ফোকাস: দেওয়াল লিখনের বদলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সক্রিয়তা।
  • বিশ্লেষণ: সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা অথবা শহুরে ভোটার টানার কৌশল হতে পারে।
  • বিজেপির দাবি: দলের কেন্দ্রীয় রণনীতি মেনেই চলছে কাজ, জয়ের বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *