প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে মহিষাদলে বিজেপি কর্মীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে তুমুল উত্তেজনা

প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে মহিষাদলে বিজেপি কর্মীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে তুমুল উত্তেজনা

পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ঠিক আগেই এক বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর হলদি নদীর পাড় থেকে ওই যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, মৃত যুবক তাঁদের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং বিজেপির পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, খুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের পালটা দাবি, মৃত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন না। এই ঘটনাকে নিছক ব্যক্তিগত বিবাদ বা অন্য কোনো কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি আসলে ‘লাশের রাজনীতি’ করে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে চাইছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মৃত্যুকে খুনের তকমা দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

বর্তমানে পুরো এলাকা পুলিশি পাহারায় রয়েছে এবং অশান্তি এড়াতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে এই হাই-প্রোফাইল রহস্যমৃত্যু জেলা রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *