ধূলিসাৎ যুদ্ধবিরতি চুক্তি! ইরানের তেল শোধনাগারে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ, পালটা হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

ধূলিসাৎ যুদ্ধবিরতি চুক্তি! ইরানের তেল শোধনাগারে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ, পালটা হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

খাতায়-কলমে সংঘর্ষবিরতি ঘোষিত হলেও শান্তি ফিরল না মধ্যপ্রাচ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভেস্তে যায়। বুধবার ইরানের লাভান দ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আকাশপথে বড়সড় হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা নাগাদ ঘটা এই হামলায় গোটা এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার পরেই কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পালটা আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান।

চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা চলার কথা ছিল। শর্ত ছিল এই সময়ে আমেরিকা ও ইজরায়েল কোনো আক্রমণ চালাবে না এবং ইরানও হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। কিন্তু বুধবারের এই বিস্ফোরণ সেই সমঝোতাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। লাভান দ্বীপের হামলার খবর ইরানের তৈল মন্ত্রকের সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন, কুয়েত ও আমিরশাহীতে ড্রোন এবং মিসাইল হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও এই পালটা হামলা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়াটাই ছিল প্রত্যাশিত। প্রথমত, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়, যা যুদ্ধের পথ খোলা রেখেছে। দ্বিতীয়ত, ইরান ও আমেরিকার নেতৃত্বের মধ্যে চরম আস্থার অভাব এই চুক্তি পালনের পথে বড় বাধা। যুদ্ধের কয়েক ঘণ্টার বিরতির পর ফের এই বিধ্বংসী আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সংঘাত প্রশমনের বদলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল ও ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *