বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারায় এবার সাপ ও কুমির বিএসএফের পরিকল্পনা কতখানি বাস্তবসম্মত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফের এক অভিনব পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। সীমান্তের নদী ও জলাভূমি এলাকায় প্রহরার জন্য সাপ এবং কুমিরের মতো প্রাকৃতিক বাধা ব্যবহারের কথা ভাবছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। কৃত্রিম নজরদারির পাশাপাশি প্রকৃতির এই হিংস্র প্রাণীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই ভাবনাটি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বনদপ্তরের বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বিএসএফের এই পরিকল্পনা বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শিলিগুড়ির ডাবগ্রামের বনদপ্তরের কর্মী অরিথ দে এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক তথ্য তুলে ধরেছেন:
- সাপের নিয়ন্ত্রণ আসাম্ভব: সাপ কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে রাখা যায় না। কোনো এলাকা থেকে সাপ ধরে এনে অন্য কোথাও ছাড়লে তারা সেখানে অবস্থান করবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
- পরিবেশ ও আবহাওয়া: সব সাপ সব পরিবেশে থাকতে পারে না। জলাভূমি এলাকায় বিষহীন সাপ যেমন ‘জলঢোরা’ দেখা গেলেও, গোখরোর মতো বিষাক্ত সাপ শুকনো জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। ফলে বিষাক্ত সাপ দিয়ে জলাভূমি পাহারা দেওয়ার পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মত নয়।
- কুমিরের সম্ভাবনা: যদি বদ্ধ এলাকা বা উপযুক্ত পরিবেশের সাথে পর্যাপ্ত খাবারের জোগান দেওয়া যায়, তবে কুমিরকে কাজে লাগানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ও ঝুঁকি
একত্রে প্রচুর পরিমাণে সাপ বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ছেড়ে দিলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে। যদি সাপের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইঁদুরের সংখ্যা কমে যাবে। এর ফলে সাপের খাদ্যাভাব দেখা দেবে এবং তারা পার্শ্ববর্তী জনবসতির দিকে সরে যেতে পারে। সাধারণত একটি সাপ ১০০ মিটারের মধ্যেই বিচরণ করে, কিন্তু সীমিত জায়গায় অধিক সংখ্যায় প্রাণীদের রাখলে তা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে বিঘ্ন ঘটাবে।
বিএসএফ জওয়ানের ওপর আরপিএফের হামলা
সীমান্ত রক্ষার পরিকল্পনার ডামাডোলের মধ্যেই এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ছুটিতে বাড়ি আসা এক বিএসএফ জওয়ানকে প্রকাশ্য রাস্তায় বেধড়ক মারধর করেছেন আরপিএফ কর্মীরা। রেলগেট নিয়ে হওয়া সামান্য বচসা থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত। এই ঘটনায় ওই বিএসএফ জওয়ানের নাক ফেটে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হাদি হত্যাকাণ্ডে বিএসএফের কড়া জবাব
সম্প্রতি বাংলাদেশে হাদির খুনিদের ভারতে পালিয়ে আসার যে দাবি ঢাকা পুলিশ তুলেছিল, তাকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিএসএফ। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে কেউ অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা বাস্তব প্রমাণ মেলেনি বলেই স্পষ্ট জানানো হয়েছে। বিএসএফের দাবি, সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
একঝলকে
- সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে সাপ ও কুমির নামানোর পরিকল্পনা বিএসএফের।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপকে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রাখা কার্যত আসাম্ভব।
- বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার এবং খাদ্যাভাবের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
- রেলগেট বচসায় বিএসএফ জওয়ানকে আরপিএফের মারধরের অভিযোগ।
- বাংলাদেশে খুনের আসামিদের ভারতে প্রবেশের দাবি অস্বীকার করেছে বিএসএফ।