আসানসোল উত্তরে কৃষ্ণেন্দু বিভ্রাট, একই নামের তিন প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিজেপি

আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন নির্বাচনে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী আধিকারিকের স্ক্রুটিনির পর যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে মূল লড়াইয়ের ময়দানে একই নামের প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী মলয় ঘটকের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রধান বাজি কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তবে সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে আরও দুই কৃষ্ণেন্দুর উপস্থিতিতে, যারা নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একই নামের এই তিন প্রার্থীর লড়াই এখন স্থানীয় রাজনীতির মূল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের নাম ও পদবির সঙ্গে হুবহু মিল রেখে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন আরেক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী। এখানেই শেষ নয়, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় নামে আরও এক ব্যক্তি নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজেপির দাবি, এই কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় মলয় ঘটকের ঘনিষ্ঠ। এই ‘ডামি’ প্রার্থী বিভ্রাটে স্বাভাবিকভাবেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে গেরুয়া শিবিরের। বিজেপি প্রার্থীর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত যাতে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়ে ভুল জায়গায় ভোট দিয়ে বসেন।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির তোলা এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়ের মতে, নাম এক হলেও প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক আলাদা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক সংগঠন শক্তিশালী হলে মানুষ প্রতীকেই ভোট দেবেন, ফলে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দিনের শেষে লড়াইটা পদ্ম বনাম জোড়া ফুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, বিতর্কিত দুই নির্দল প্রার্থীর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আসানসোল উত্তর কেন্দ্রে এবার মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট মলয় ঘটক এবং বিজেপির কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় ছাড়াও লড়াইয়ে রয়েছেন বামফ্রন্টের অখিলেশ কুমার সিং এবং কংগ্রেসের প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই ‘নামের খেলা’। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত আসল ও নকলের পার্থক্য বুঝে সঠিক প্রতীকে বোতাম টিপতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।