কোমায় আচ্ছন্ন স্বামীর শুক্রাণু সংরক্ষণের আরজি, মাতৃত্বের স্বাদ পেতে দিল্লি হাইকোর্টে স্ত্রী

কোমায় আচ্ছন্ন স্বামীর শুক্রাণু সংরক্ষণের আরজি, মাতৃত্বের স্বাদ পেতে দিল্লি হাইকোর্টে স্ত্রী

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের শয্যায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মৃত্যু লড়ছেন স্বামী। চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং রোগী বর্তমানে কেবল কৃত্রিম জীবনদায়ী ব্যবস্থার সাহায্যে টিকে রয়েছেন। জীবনের এই ঘোর অন্ধকারের মাঝেই মাতৃত্বের আলো খুঁজছেন তাঁর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর আশঙ্কার মাঝেও তাঁদের ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে একটি সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে চান তিনি। এই মানবিক আরজি নিয়েই সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলা।

আবেদনকারী মহিলার স্বামী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, দিন দিন রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এমতাবস্থায় শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট হওয়ার আগেই তা সংগ্রহের অনুমতি প্রয়োজন। দেরি হলে ওই মহিলার মা হওয়ার শেষ আশাটুকুও চিরতরে মুছে যেতে পারে। তিনি আদালতের কাছে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের আবেদন জানিয়েছেন, যারা খতিয়ে দেখবে এই অবস্থায় শুক্রাণু সংগ্রহ করা কতটা নিরাপদ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই পদ্ধতিকে ‘সার্জিক্যাল স্পার্ম রিট্রিভাল’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগী কোমায় থাকলেও সাধারণত শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট হয় না। সূক্ষ্ম সূঁচের সাহায্যে অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বহু বছর পর্যন্ত জমিয়ে রাখা সম্ভব। পরবর্তীকালে কৃত্রিম প্রজনন বা আইভিএফ পদ্ধতিতে এর মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা যায়।

তবে এই মামলার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০২১ সালের ভারতের প্রজনন সংক্রান্ত আইন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দম্পতির পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া শুক্রাণু সংগ্রহ বা ব্যবহার করা যায় না। এক্ষেত্রে স্বামী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় না থাকায় স্ত্রীর একার সম্মতি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। মাতৃত্বের অধিকার আইনি জটিলতা জয় করতে পারবে কি না, তা আগামী ৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানিতে স্পষ্ট হতে পারে। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *