১৭ বছর পর ধরা পড়ল হার্টের জন্মগত ত্রুটি, এসএসকেএম-এর চিকিৎসকদের হাতে নতুন জীবন পেল কিশোরী

১৭ বছর পর ধরা পড়ল হার্টের জন্মগত ত্রুটি, এসএসকেএম-এর চিকিৎসকদের হাতে নতুন জীবন পেল কিশোরী

জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রে জটিল ত্রুটি ছিল, অথচ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সেই কথা জানাই ছিল না। সাধারণ জীবনযাপন করার পর গত দুই বছর ধরে হঠাৎই অসহ্য হাঁজল ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল ওই কিশোরী। দক্ষিণ ভারতের নামী হাসপাতালগুলো যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিল, তখন কলকাতার এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতাল অসাধ্য সাধন করে তাকে নতুন জীবন দিল। প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. প্রদীপ ঘোষালের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল সফলভাবে এই বিরল ও জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন।

চিকিৎসা পরিভাষায় এই সমস্যাটিকে বলা হয় ‘পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস’ (PDA)। সাধারণত জন্মের দুই-তিন দিনের মধ্যে ভ্রূণের একটি বিশেষ রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এই কিশোরীর ক্ষেত্রে তা খোলা ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে নালীটি চওড়া না হওয়ায় কোনো লক্ষণ বা ‘হার্ট মারমার’ ধরা পড়েনি। চিকিৎসকদের মতে, আর কয়েক দিন দেরি হলে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে ফুসফুসে স্থায়ী রক্তচাপ বেড়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত। ঠিক সেই সংকটজনক মুহূর্তেই চিকিৎসকরা সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এসএসকেএম-এর চিকিৎসকরা কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়াই অত্যাধুনিক ‘কার্ডিয়াক ক্যাথিটারাইজেশন’ পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচার করেন। কুঁচকির কাছে সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে একটি টিউব হার্টে পৌঁছে দিয়ে ‘পিডিএ অক্লুডার’ নামক ছাতার মতো একটি যন্ত্রের সাহায্যে খোলা নালীর মুখটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই প্লাগটি বসানোর সাথে সাথেই রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়ে যায়। ডা. শ্রেয়াংশু চৌধুরি ও ডা. দীপাঞ্জণা বক্সিও এই সফল টিমের অংশ ছিলেন।

বর্তমানে ওই কিশোরী পুরোপুরি সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শ্বাস নেওয়া, দুধ খাওয়ার সময় কপালে ঘাম হওয়া বা ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণ থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ১৭ বছর ধরে হৃদযন্ত্রে ত্রুটি নিয়ে বেঁচে থাকার পর এসএসকেএম-এর এই সাফল্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। আবারও প্রমাণিত হলো যে, সঠিক সময়ে আধুনিক চিকিৎসা মিরাকেল ঘটাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *