বাংলায় ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ পড়ার ঘটনায় সরব বামফ্রন্ট, ভোটকুশলীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বামফ্রন্ট। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় ভোট গ্রহণ হতে চলেছে। তার ঠিক আগে এমন নজিরবিহীন ঘটনায় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাম শিবিরের অভিযোগ, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
বিমান বসু জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় থেকেই বামফ্রন্ট দাবি করেছিল কোনো বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে থেকে ২৭ লক্ষ বা ৪৫ শতাংশ ভোটারকে শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে। বাম নেতৃত্বের প্রশ্ন, যেসব মানুষ গত নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন এবং যাঁদের কাছে যথাযথ নথিপত্র রয়েছে, তাঁদের নাম কীভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়ল? ট্রাইব্যুনালের কাজের পদ্ধতি অস্পষ্ট রেখে পরিকল্পিতভাবে প্রান্তিক মানুষ, মহিলা ও শ্রমজীবী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বামফ্রন্ট।
বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার নয়া ফ্যাসিবাদী কায়দায় এই আক্রমণ নামিয়ে এনেছে এবং রাজ্য প্রশাসন এই অগণতান্ত্রিক কাজে মদত দিচ্ছে। বামফ্রন্টের মতে, বিজেপি এই সমগ্র পরিকল্পনার মূল কারিগর এবং তারা নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এই ষড়যন্ত্র সফল করেছে। এই ঘটনাকে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বামফ্রন্ট।
ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াইয়ে বামফ্রন্ট নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছে। যেসব ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের জন্য বামফ্রন্টের আইনজীবী ও কর্মীরা সহায়তা করছেন। বিমান বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের স্বরূপ জনসমক্ষে উন্মোচিত করতে হবে এবং বৈধ ভোটারদের সঙ্গে নিরন্তর সংযোগ রক্ষা করে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।