বাংলার নির্বাচনে হিংসা ও বুথ জ্যামিং রুখতে তৃণমূলকে নির্বাচন কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটদান নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া বার্তা দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ইসিআই (ECI) স্পষ্ট জানিয়েছে, এবারের নির্বাচন হতে হবে ভয়, হিংসা এবং প্রলোভনমুক্ত। বিশেষ করে বুথ দখল, বুথ জ্যামিং এবং ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০ বছরে রাজ্যে নির্বাচনী হিংসার ভয়াবহ ইতিহাস এবং ২০২১ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার কোনোভাবেই রেইড বা সোর্স জ্যামিং বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ভোটের লক্ষ্যে ইতিপূর্বেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৪৮৩ জন সরকারি কর্মকর্তাকে বদলি করেছে ইসিআই, যাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা রয়েছেন। কমিশনের দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এই কড়া পদক্ষেপ অপরিহার্য। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে।
সম্প্রতি তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকটি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনলেও, কমিশন পালটা অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে। তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে যাচাইয়ের অধীনস্থ নাম বাদে ভোটার সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.০৪ কোটিতে।
রাজ্যের বর্তমান শাসকদল এই গণ-বদল ও ভোটার তালিকা সংশোধনকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা চিঠি পেশ করে বিজেপি ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় থেকে স্বচ্ছ নির্বাচন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ডামাডোল ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।