বনগাঁর রাস্তায় বিএলও-র সই ও সিল করা ভোটার ফর্মের বান্ডিল উদ্ধার ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

নির্বাচনের মুখে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিএলও-র সই ও সিল সম্বলিত গুরুত্বপূর্ণ ৬ নম্বর ফর্মের বান্ডিল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বনগাঁ দত্তপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় সিপিআইএম প্রার্থী পীযূষ কান্তি সাহা রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এই নথিগুলি উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া প্রায় ২০টি ফর্মে নির্দিষ্ট বিএলও-র সই ও সিল থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাম প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে এবং এতে স্পষ্ট প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কড়া বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের দাবি, উদ্ধার হওয়া ফর্মগুলোর মধ্যে ১৮টি ঘাটবাওর এবং ২টি গঙ্গানন্দপুর পঞ্চায়েত এলাকার। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে অসৎ উপায়ে নিজেদের কর্মীদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক ৬ নম্বর ফর্ম সন্দেহজনকভাবে জমা দেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে বাইরের রাজ্যের যোগসূত্র থাকতে পারে।
বিপুল পরিমাণ ভোটার আবেদনপত্র এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সিপিআইএম প্রার্থী উদ্ধার হওয়া ফর্মগুলি ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ভোটার তালিকায় নাম তোলার এই প্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে স্পর্শকাতর নথির এই উদ্ধার ঘিরে সরগরম বনগাঁর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।