লেবাননে ইজরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা, বেইরুটে ব্যাপক ধ্বংসলীলার মাঝে ১৫০০ ছাড়াল প্রাণহানি

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পাঁচ সপ্তাহের সংঘাত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে আপাতত শান্ত হলেও লেবাননে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ইজরায়েলি বাহিনী বুধবার বেইরুট ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে তীব্র হামলা চালিয়েছে। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই চালানো এই আকস্মিক আক্রমণ ১৯৮২ সালের ভয়াবহ ইজরায়েলি আগ্রাসনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে এক মর্মান্তিক চিত্র, যেখানে বিস্ফোরণের তীব্রতায় শিশুসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর মিলেছে।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আদরাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, চলমান যুদ্ধবিরতি লেবাননের জন্য প্রযোজ্য নয়। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইজরায়েল ইতিমধ্যে দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটের প্রায় ১৫ শতাংশ এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। লিটানি নদী পর্যন্ত অঞ্চল দখল করে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ার লক্ষ্যে ইজরায়েল তাদের স্থল ও আকাশপথের অভিযান আরও জোরদার করেছে।
এই সংঘাতের জেরে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১৩০ জন শিশু এবং ১০০ জনেরও বেশি নারী রয়েছেন। এছাড়া ১২ লক্ষাধিক মানুষ ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর পেজার বিস্ফোরণের পর হিজবুল্লাহর জন্য এটিই সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফোনালাপে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হিজবুল্লাহর ৪০০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে ১০ জন ইজরায়েলি সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পালটা জবাব দিতেই তারা এই অভিযান চালাচ্ছে। তবে সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যু এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ফলে লেবাননে এক চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।