মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্ট বিজ্ঞপ্তি খারিজ, গণতন্ত্রের অবমাননা জ্ঞানেশ ইস্যুতে একজোট ইন্ডিয়া জোট

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের বিজ্ঞপ্তি যে পদ্ধতিতে সংসদের দুই কক্ষে খারিজ করা হয়েছে, তাকে অগণতান্ত্রিক বলে সরব হয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) জোট। দিল্লিতে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান প্রণেতাদের মূল উদ্দেশ্যকে নষ্ট এবং সংবিধানের গৌরব হরণ করা হয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, আরজেডি ও এনসিপি (এসপি)-র মতো দলগুলো একজোট হয়ে এই ইস্যুতে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে।
কংগ্রেস সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সাংভি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের সপক্ষে লোকসভার ১০০ জন এবং রাজ্যসভার ৫০ জন সদস্যের প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের চেয়ে অনেক বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রস্তাবটি একটি কমিটির কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও, সংসদের প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই বিচারকের ভূমিকা পালন করে তা খারিজ করে দিয়েছেন। সাংভির মতে, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে সংবিধানের মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ছয়টি ধাপের প্রথম ধাপেই এই প্রস্তাবটি গলা টিপে মারা হয়েছে। প্রিসাইডিং আধিকারিক কোন যুক্তিতে এবং কিসের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিতে পাঠানোর আগেই এটি বাতিল করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। পদ্ধতি যদি স্বচ্ছই হয়, তবে সরকার কেন স্ক্রুটিনি বা যাচাই প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে গেল, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে সাংবাদিক বৈঠকে।
বিরোধীদের দাবি, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর এক বড় আঘাত। জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখতে তারা ভবিষ্যতে আইনি পথে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জনগণের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের গুরুত্ব এবং তা খারিজের নেপথ্যে থাকা কারণগুলো নিয়ে দেশজুড়ে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী শিবিরের দলগুলি।