ব্যাঙ্গালুরুর জেলে ১০ মাস বন্দি থাকার পর এবার ভোটার তালিকা থেকেও বাদ জামালপুরের অধিকারী পরিবার

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের জৌগ্রামের বাসিন্দা পলাশ অধিকারী ও তাঁর পরিবার নিজ ভূমে পরবাসী হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দু’বেলা অন্নসংস্থানের তাগিদে তিন বছর আগে সপরিবারে ব্যাঙ্গালুরু পাড়ি দিয়েছিলেন পেশায় শ্রমিক পলাশ। তবে ২০২২ সালের জুলাই মাসে ব্যাঙ্গালুরুর ভারথুর থানার পুলিশ তাঁদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আধার, প্যান ও ভোটার কার্ডের মতো বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী ও দুগ্ধপোষ্য সন্তানসহ পলাশকে ১০ মাস জেল খাটতে হয়। এই আইনি লড়াই লড়তে গিয়ে পরিবারটি সম্পূর্ণ সর্বস্বান্ত হয়েছে এবং মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে পলাশের বাবা পঙ্কজ অধিকারী হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জেল থেকে মুক্তি পেয়ে গ্রামে ফেরার পরও দুর্দশা পিছু ছাড়েনি এই পরিবারের। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক ‘সাপ্লিমেন্টারি’ ভোটার তালিকায় জৌগ্রামের ৭৮ নম্বর বুথ থেকে পলাশ অধিকারী, তাঁর মা সবিতাদেবী, স্ত্রী শুক্লা এবং বোন সাথী অধিকারীর নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছে। বাম আমল থেকে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসা একটি পরিবারের সমস্ত সদস্যের নাম একসঙ্গে বাদ যাওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পলাশের আক্ষেপ, ব্যাঙ্গালুরু পুলিশের ভুল মামলার মাসুল তাঁদের এভাবে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় দিতে হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামালপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ব্যাঙ্গালুরুতে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া এই পরিবারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া আসলে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের একটি গভীর চক্রান্ত। সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে পলাশ একটি বেসরকারি ডেলিভারি সংস্থায় কাজ করে কোনোমতে সংসার টানলেও, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থীর দাবি, সিএএ (CAA) নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর ফলেই এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে জামালপুরের অধিকারী পরিবার এখন কেবল তাঁদের হৃত ভোটাধিকার এবং ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মর্যাদার সাথে বাঁচার নিশ্চয়তা খুঁজছে। পলাশ অধিকারীর এই লড়াই এখন এক দরিদ্র শ্রমিকের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।