মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে বিজেপি, শ্রীরামপুরের মেগা সভা থেকে ভোটারদের সতর্ক করলেন মমতা

লোকসভা নির্বাচনের আবহে বুধবার শ্রীরামপুর স্টেডিয়াম মাঠে তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় বিজেপি ও সিপিএম-কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমজনতার খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি সরব হন। আরামবাগ ও বলাগড়ের কর্মসূচি সেরে শ্রীরামপুরে পৌঁছানো মুখ্যমন্ত্রীর এই সভায় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল সেন উপস্থিত থাকলেও, বিদায়ী বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জনসভা থেকে বিজেপি-কে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, এবারের লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ, মাংস ও ডিমের মতো প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা দেশজুড়ে ‘চৈত্রসেল’ শুরু করেছে এবং দেশের মানুষের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্য কোনো দলকে ভোট দিয়ে মূল্যবান ভোট নষ্ট না করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই-এর অতি-সক্রিয়তা নিয়েও এদিন ফের মুখ খোলেন তৃণমূল নেত্রী। সিপিএম-এর সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাম নেতাদের বিরুদ্ধে কেন কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত হয় না। তাঁর দাবি, বামেরা বিজেপির কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছে বলেই তারা ছাড় পাচ্ছে। বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফের আইনি পথে লড়াই করার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। আইনি লড়াই ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মাঝেমধ্যে তাঁর ইচ্ছে হয় মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়ে পুনরায় আইনজীবী হিসেবে প্র্যাক্টিস শুরু করতে। কেবল প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি বর্তমানে সেই পথে হাঁটতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে শ্রীরামপুরের এই হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে একদিকে যেমন খাদ্য সুরক্ষার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের একযোগে নিশানা করে নির্বাচনি লড়াইয়ের পারদ আরও চড়িয়ে দিলেন।