৬ সেকেন্ডে ভোট এবং মধ্যরাতে ১৭ লক্ষ ব্যালট, অর্থমন্ত্রীর স্বামীর বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

৫ রাজ্যের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক মুখে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী তথা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকরের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন যে, গভীর রাতে যখন সাধারণ মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হাজার হাজার বুথে ঝড়ের গতিতে ভোট পড়েছে। এই ঘটনা প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং স্বচ্ছতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
মধ্যরাতের রহস্যময় ১৭ লক্ষ ভোট
পরাকলা প্রভাকরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে ১৩ মে রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ১৪ মে রাত ২টোর মধ্যে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ওই কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১৭ লক্ষ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৪.১৬ শতাংশ। সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত হিসেব করলে এই সংখ্যাটি দাঁড়ায় প্রায় ৫২ লক্ষ। প্রশ্ন উঠছে, ভোটারদের লাইন কি তবে মাঝরাত অবধি দীর্ঘ ছিল, নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কিছু ঘটেছে?
৬ সেকেন্ডের অলৌকিক গতি
রিপোর্টে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো ভোটদানের গতি। প্রভাকর দাবি করেছেন, অনেক জায়গায় গড়ে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ৬ সেকেন্ডে এক-একটি ভোট সম্পন্ন হয়েছে। অথচ প্রযুক্তিগতভাবে একটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম (EVM) একবার ভোট দেওয়ার পর পুনরায় প্রস্তুত হতে অন্তত ১৪ সেকেন্ড সময় নেয়। এর সাথে ভোটার শনাক্তকরণ, নথিতে সই এবং আঙুলে কালি লাগানোর সময় যোগ করলে ৬ সেকেন্ডে ভোট দেওয়া কার্যত আসাম্ভব। এই ‘অলৌকিক’ গতি ইভিএম-এর বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাঠগড়ায় তুলছে।
শতাংশের অস্বাভাবিক উল্লম্ফন
ভোটের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ৬৮.০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত তথ্যে দেখা যায় সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১.৭৯ শতাংশে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১৮ শতাংশ ভোটের এই উল্লম্ফন স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশিও এই তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের ছায়া
অন্ধ্রপ্রদেশের এই ছক সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় ভোটগ্রহণ। বিরোধী শিবির এবং সাধারণ নাগরিক মহলে এখন একটাই আশঙ্কা—বাংলার বুথগুলোতেও কি মাঝরাতের অন্ধকারে বা চোখের নিমেষে রহস্যময় ভোট পড়বে? ফর্ম ১৭-সি বা বুথ স্তরের তথ্য জনসমক্ষে না আনা এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ পুরোপুরি গণনা না করার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
একঝলকে
- অর্থমন্ত্রীর স্বামী পরাকলা প্রভাকরের বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ।
- অন্ধ্রপ্রদেশে মধ্যরাতের পর ১৭ লক্ষেরও বেশি ভোট পড়ার দাবি।
- মাত্র ৬ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়ার অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান।
- বিকেল ৫টার পর ভোটের হার ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন।
- পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা।