বারুইপুর পশ্চিমে রেকর্ডের হাতছানি বনাম পদ্ম শিবিরের চ্যালেঞ্জ বিধানসভা নির্বাচনে কার পাল্লা ভারী

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রটি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়। তিন দশক আগে বাম নেতা হেমেন মজুমদার টানা তিনবার জিতে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, বর্তমানে সেই একই অবস্থানে রয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার জিতলে তিনি বারুইপুর পশ্চিমের ইতিহাসে সর্বাধিক জয়ের একক নজির গড়বেন। তবে কেবল জয় নয়, তৃণমূলের এবারের মূল লক্ষ্য হলো জয়ের ব্যবধান বা মার্জিন আকাশছোঁয়া করা।
তৃণমূলের লক্ষ্য মার্জিন বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্ড
২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রের বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রায় ৬২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তৃণমূল শিবিরের দাবি, এলাকার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে বিমানবাবুকেই চায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার থেকে শুরু করে পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ—সবক্ষেত্রেই এখন মার্জিন বাড়ানোর অঙ্ক কষছে ঘাসফুল শিবির। বিশেষ করে বারুইপুর পুরসভার যে ৫-৬টি ওয়ার্ডে গতবার তৃণমূল পিছিয়ে ছিল, এবার সেখানে লিড বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতি রবিবার বিধায়কের এলাকায় উপস্থিতি এবং নিয়মিত পরিদর্শনের বিষয়টি শাসক দল ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে বিজেপি ও স্থানীয় সমস্যা
তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর পরিকল্পনাকে ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস’ বলে কটাক্ষ করছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের লিড কমেছে এবং ভোটার তালিকায় সংশোধনের ফলে সমীকরণ বদলে গেছে। বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল এলাকার যানজট সমস্যা, হিমঘর নির্মাণ এবং ফলচাষিদের জন্য পৃথক বাজারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। পানীয় জলের সমস্যাকে হাতিয়ার করে বিজেপি শাসক দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেও তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ‘জল জীবন মিশন’-এর টাকা বন্ধ করে দেওয়ায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বামেদের লড়াই ও অস্তিত্বের প্রশ্ন
এক সময়ের বাম দুর্গ বারুইপুর পশ্চিমে এখন সিপিএমের ভোট কার্যত তলানিতে। ২০১৬ সালে ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, ২০২১ সালে তা কমে মাত্র ৪ শতাংশে নেমে আসে। এবার বাম প্রার্থী লাহেক আলি পরিবর্তনের ডাক দিয়ে প্রচার চালালেও, তৃণমূল ও বিজেপি কেউই বামেদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে বাম প্রার্থীর দাবি, শহরের বেহাল রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যার কারণে মানুষ এবার বিকল্প পথ খুঁজবে।
উন্নয়নের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঝেই উন্নয়নের রূপরেখা দিচ্ছেন প্রার্থীরা:
- তৃণমূল কংগ্রেস: অর্ধসমাপ্ত কাজ শেষ করা এবং এলাকায় হিমঘর নির্মাণের পরিকল্পনা।
- বিজেপি: ফলচাষিদের জন্য বিশেষ বাজার, আধুনিক হিমঘর এবং যানজট মুক্ত শহর গঠন।
- সিপিএম: পানীয় জল ও রাস্তার পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।