মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেই কোনো গাড়ি বা বাড়ি, মাত্র ৭৫ হাজার টাকা নগদ নিয়ে লড়ছেন তৃণমূল নেত্রী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেই কোনো গাড়ি বা বাড়ি, মাত্র ৭৫ হাজার টাকা নগদ নিয়ে লড়ছেন তৃণমূল নেত্রী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপন ও সাদামাটা ভাবমূর্তি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা দক্ষিণ জেলার ভবানীপুর আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁর হলফনামায় উঠে আসা তথ্যে সেই চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। দেখা গেছে, টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ গত পাঁচ বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

মোট সম্পদের পরিমাণ ও বর্তমান স্থিতি

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৫.৩৭ লক্ষ টাকা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৬.৭২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, গত পাঁচ বছরে তৃণমূল নেত্রীর সম্পদ প্রায় ১.৩ লক্ষ টাকা কমেছে। একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সম্পদ বৃদ্ধির পরিবর্তে হ্রাস পাওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নগদ টাকা ও ব্যাংক ব্যালেন্স

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আয়ের উৎস এবং সঞ্চয়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁর সম্পদের সিংহভাগই রয়েছে ব্যাংকে। হলফনামার উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

  • নগদ অর্থ: বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৭৫,৭০০ টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ৬৯,২৫৫ টাকা।
  • ব্যাংক আমানত: তাঁর সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ১২.৭ লক্ষ টাকার বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে।
  • নির্বাচনী অ্যাকাউন্ট: নির্বাচনের খরচ মেটানোর জন্য খোলা একটি বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তাঁর ৪০,০০০ টাকা জমা আছে।

স্থাবর সম্পত্তির অনুপস্থিতি ও অলঙ্কার

তৃণমূল নেত্রীর হলফনামায় সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো তাঁর নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। মুখ্যমন্ত্রী পদে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় থাকা সত্ত্বেও তাঁর নামে কোনো ব্যক্তিগত বাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা চাষযোগ্য জমি নেই। এমনকি যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোনো গাড়িও নেই তাঁর। অলঙ্কারের ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সংযমী; তাঁর কাছে মাত্র ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম সোনা রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১.৪৫ লক্ষ টাকা।

প্রশাসনিক ও আইনি স্বচ্ছতা

সম্পদের বিবরণের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আইনি অবস্থানের কথাও স্পষ্ট করেছেন। ২০২১ সালের মতোই ২০২৬ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং তাঁর কোনো আর্থিক দেনাও নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তিনি স্বচ্ছতার বার্তাই দিতে চেয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই নিজেকে ‘সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরতে পছন্দ করেন। তাঁর এই বিপুল সম্পদহীনতা তাঁর সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। বিশেষ করে যেখানে সমসাময়িক অনেক রাজনীতিকের সম্পদ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সম্পদ কমে যাওয়া তাঁর ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা এবং সাধারণ জীবনযাত্রার প্রতি অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে। ভবানীপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই নেত্রীর জীবনযাপন পদ্ধতি ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • মোট অস্থাবর সম্পদ: ১৫,৩৭,৫০৯.৭১ টাকা।
  • স্থাবর সম্পত্তি: নিজস্ব কোনো বাড়ি, জমি বা ফ্ল্যাট নেই।
  • যানবাহন: কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই।
  • নগদ টাকা: ৭৫,৭০০ টাকা।
  • স্বর্ণালঙ্কার: ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম (মূল্য প্রায় ১.৪৫ লক্ষ টাকা)।
  • আইনি অবস্থা: কোনো অপরাধমূলক মামলা বা আর্থিক ঋণ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *