তৃণমূলের বিরুদ্ধেই মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি! হাজার কোটির স্টিং অপারেশন নিয়ে মুখ খুললেন হুমায়ুন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ১০০০ কোটি টাকার কথিত ‘ডিল’ এবং একটি স্টিং অপারেশনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, বাবরি মসজিদ নির্মাণের নাম করে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করেছেন হুমায়ুন। তবে পাল্টা জবাবে এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ ও হাজার কোটির ডিল
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, হুমায়ুন কবীর বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে বড়সড় আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, মুসলিম ভোট ভাগ করার জন্য বিজেপি হুমায়ুন কবীরকে ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গেছে যে তিনি ১০০০ কোটি টাকা পাচ্ছেন এবং এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) সঙ্গে যুক্ত। ফিরহাদ হাকিমের মতে, ধর্মের আবেগ বিক্রি করে বিজেপি বাংলাকে অপমান করছে এবং মুসলিমদের অনুভূতি নিয়ে সওদা করা হচ্ছে।
ষড়যন্ত্র ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের পাল্টা দাবি
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তৃণমূলের দেখানো ভিডিওটি সম্পূর্ণভাবে ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি বা বিকৃত করা। তিনি ২০১৯ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপি-র কোনো শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করেছেন।
হুমায়ুন কবীর উল্টে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই নেতারা মিলে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা স্টিং অপারেশন সাজিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি চার নেতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব
২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কাদা ছোড়াছুড়ি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ‘মিম’ এবং হুমায়ুন কবীরের দলের জোট রাজ্যে ভোট কাটাকুটির রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে যে, এই ছোট দলগুলো আদতে বিজেপির সুবিধা করে দিতেই মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর নিজেকে ‘বঞ্চিত মুসলিমদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। এই স্টিং অপারেশন বিতর্ক সাধারণ ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
একঝলকে
- তৃণমূলের দাবি হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ ইস্যু নিয়ে বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার ডিল করেছেন।
- হুমায়ুন কবীরের পাল্টা দাবি, ভিডিওটি জাল এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো হয়েছে।
- ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন।
- ২০১৯ সালের পর বিজেপির কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতার সঙ্গে কথা হয়নি বলে দাবি করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান।
- নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ভাগাভাগির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।