শাহকে পাত পেড়ে খাওয়ানো নবীনের নামও কি ভোটার লিস্টে নেই? সত্যিটা ফাঁস করলেন ক্ষুব্ধ মতুয়া নেতা!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলার রাজনীতি। এর মধ্যেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্য নবীন বিশ্বাস। ২০২১ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যাঁর বাড়িতে পাত পেড়ে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিলেন, সেই নবীন বিশ্বাস এখন বিজেপির ওপর চরম ক্ষুব্ধ। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে নবীনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আসল সত্য সামনে আনলেন এই মতুয়া নেতা।
নাম কাটার গুঞ্জন ও প্রকৃত সত্য
সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে নবীন বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট হয়ে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে নবীন বিশ্বাস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়নি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রচারিত এই তথ্যকে তিনি ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে নিজের নাম তালিকায় থাকলেও গেরুয়া শিবিরের প্রতি তাঁর ক্ষোভের কারণ ভিন্ন।
বিজেপির প্রতি ক্ষোভের নেপথ্য কারণ
২০২১ সালে স্বয়ং অমিত শাহ ও দিলীপ ঘোষ নবীনের রাজারহাট-নিউটাউনের বাড়িতে এসে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিলেন। নবীনের স্ত্রী সুচন্দ্রা বিশ্বাস নিজের হাতে বাসমতি চালের ভাত ও সোনামুগ ডাল রান্না করে তাঁদের খাইয়েছিলেন। সেই দিনের উচ্ছ্বাস আজ বিষাদে পরিণত হয়েছে। নবীনের অভিযোগের মূল জায়গাগুলি হলো:
- প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: নবীন বিশ্বাসের দাবি, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে এসআইআর হলেও কোনো মতুয়া বা নমশূদ্রর নাম বাদ যাবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ১৫-২০ বছর ধরে ভোট দেওয়া বহু মতুয়া ও উদ্বাস্তু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
- নাগরিকত্ব ও বঞ্চনা: দেশভাগের শিকার ছিন্নমূল মানুষদের নিঃশর্ত নাগরিকত্বের কথা বলা হলেও বর্তমানে ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
- সহযোগিতার অভাব: রাজারহাট-নিউটাউন ও বিধাননগর এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার মতুয়া ভোটারের নাম কাটা গেলেও বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা মেলেনি বলে তিনি দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ
মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁর ৪টি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে রাখা বিজেপির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নবীন বিশ্বাস সরাসরি কোনো দলে যোগ না দিলেও তাঁর বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ এবার বিজেপির বিরুদ্ধেই অবস্থান নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম বাদ যাওয়া মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, যা এই ভোটব্যাঙ্ককে নতুন দিশা দিচ্ছে।
একঝলকে
- ভুল তথ্য: নবীন বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়নি।
- ক্ষোভের কারণ: নিজের নাম থাকলেও হাজার হাজার মতুয়া ও উদ্বাস্তুর নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় ক্ষুব্ধ নবীন।
- অভিযোগ: বিজেপির দেওয়া নিঃশর্ত নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি পালন না হওয়া এবং এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ।
- প্রভাব: রাজারহাট ও বিধাননগর এলাকায় প্রায় ১১ হাজার মতুয়া ভোটারের নাম ডিলিট হওয়ার দাবি।
- পুরনো পরিচয়: ২০১৫ সালে বিধাননগর পুরভোটে সিপিআইএম প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন নবীন বিশ্বাস।