“২৫ বছর কাজ করছি, এভাবে কথা বলবেন না!” জ্ঞানেশের চোখে চোখ রেখে জবাব পর্যবেক্ষকের, তারপর যা হল…

নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়লেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার অনুরাগ যাদব। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে দিল কমিশন। বুধবার দিল্লিতে পর্যবেক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের নেপথ্যে কী ঘটেছিল
সূত্রের খবর, বৈঠক চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পর্যবেক্ষকদের কাছে তাঁদের আওতাধীন এলাকার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা জানতে চান। অনুরাগ যাদব তৎক্ষণাৎ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে জ্ঞানেশ কুমার মন্তব্য করেন, “সাধারণ বিষয় জানেন না!” এই মন্তব্যের পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিজ্ঞ এই আইএএস অফিসার দমে না গিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দিকে। তিনি সাফ জানান, “আমি ২৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। আপনি এভাবে আমার সঙ্গে কথা বলবেন না।” এই সরাসরি প্রতিবাদের পর বৈঠকে এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ আসে।
কমিশনের অবস্থান ও ভিন্ন মত
নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের একাংশের দাবি, নিজের এলাকার মৌলিক তথ্য না জানা এবং পেশাগত গাফিলতির কারণেই এই অপসারণ। তাঁদের মতে, ভোট পর্যবেক্ষকদের সব তথ্য নখদর্পণে থাকা জরুরি এবং এখানে কোনো শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।
তবে প্রশাসনিক মহলের অন্য একটি অংশ এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে:
- অনুরাগ যাদব অন্য রাজ্যের (উত্তরপ্রদেশ) অফিসার হওয়ায় নতুন এলাকা সম্পর্কে সবকিছু তৎক্ষণাৎ বলা কঠিন হতে পারে।
- একটি সাধারণ তথ্যের উত্তর দিতে দেরি হওয়া কি এতটাই গুরুতর অপরাধ যে তাঁকে সরাসরি পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে?
- প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নাকি আত্মসম্মানের লড়াইয়ের ফল?
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তাৎপর্য
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও দানা বেঁধেছে। কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক এই আইএএস অফিসারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, আইএএস অফিসারদের ধমকানোর সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অনুরাগ যাদব এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী চরিত্র।
অনুরাগ যাদব উত্তরপ্রদেশের সমাজকল্যাণ ও সেনাকল্যাণ দপ্তরের প্রিন্সিপাল সচিব পদমর্যাদার অফিসার। এর আগে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে একজন সিনিয়র আমলার এভাবে অপসারণ প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একঝলকে
- অপসারিত আধিকারিক: আইএএস অনুরাগ যাদব (কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক)।
- মূল কারণ: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সাথে সরাসরি বাদানুবাদ।
- বাদানুবাদের সূত্রপাত: ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি হওয়া।
- অনুরাগের প্রতিক্রিয়া: “২৫ বছর কাজ করছি, এভাবে কথা বলবেন না।”
- রাজনৈতিক প্রভাব: তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থন এবং প্রশাসনের একাংশের মধ্যে কমিশনের কঠোরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।