স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ কি বাধ্যতামূলক? হাই কোর্টের বড় রায় জানাল আসল সত্যি!

স্কুলে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চলমান বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালতের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় এই গানটি গাওয়ার কথা বলা হলেও এটি কোথাও বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বিভু বকরু এবং বিচারপতি সিএম পুনাচারের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
আদালত জানায় যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সার্কুলারে ‘বন্দে মাতরম গাওয়া যেতে পারে’—এমন শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে বিষয়টি কোনোভাবেই শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বিচারপতিরা উল্লেখ করেন, আবেদনকারী এমন কোনো শক্ত ভিত্তি বা তথ্য প্রমাণ করতে পারেননি যেখানে দেখা যাচ্ছে যে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের কোনো পরিস্থিতি এখানে তৈরি হয়নি।
বিতর্কের মূলে যে বিষয়গুলো ছিল
জনৈক সমাজকর্মী আদালতে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর আপত্তির প্রধান কারণগুলো ছিল:
- ধর্মীয় অনুভূতি: গানটির ছয়টি স্তবকের মধ্যে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় তা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলে দাবি করা হয়।
- ধর্মনিরপেক্ষতা: মামলাকারীর মতে, স্কুলের মতো স্থানে সব স্তবক গাওয়া দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী হতে পারে।
- প্রস্তাব: তিনি দাবি করেছিলেন ছয়টি স্তবকের বদলে যেন শুধুমাত্র প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
- মৌলিক অধিকার: সংবিধানে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন আবেদনকারী।
রায়ের প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে স্কুলগুলিতে বন্দে মাতরম সংক্রান্ত কেন্দ্রের বর্তমান প্রোটোকল অপরিবর্তিত থাকছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি বা সাংবিধানিক লঙ্ঘন ছাড়া জনস্বার্থ মামলায় হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে এই রায় স্কুলগুলোতে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। কারণ আদালত একদিকে যেমন গানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছে, অন্যদিকে এটি বাধ্যতামূলক নয় বলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিসরটিও স্পষ্ট করেছে।
একঝলকে
- আদালতের রায়: স্কুলে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
- মূল পর্যবেক্ষণ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিটি একটি প্রোটোকল বা নির্দেশিকা মাত্র, কোনো বাধ্যতামূলক আইন নয়।
- মামলাকারীর দাবি: গানের সব স্তবক গাওয়া ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ।
- ফলাফল: পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে এবং সাংবিধানিক লঙ্ঘনের প্রমাণ না পাওয়ায় জনস্বার্থ মামলা খারিজ।
- বর্তমান স্থিতি: আগের নির্দেশিকা বহাল থাকলেও তা পালনের ক্ষেত্রে নমনীয়তা বজায় থাকবে।