হিরো না কি ট্রাম্পের হাতের পুতুল? শেহবাজ়ের যুদ্ধবিরতি পোস্টে ‘গোপন’ সত্য ফাঁস!

হিরো না কি ট্রাম্পের হাতের পুতুল? শেহবাজ়ের যুদ্ধবিরতি পোস্টে ‘গোপন’ সত্য ফাঁস!

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের মেঘ সরাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে শেহবাজের এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা তাঁকে বিশ্বমঞ্চে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরলেও, পর্দার পেছনের সমীকরণ নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, শেহবাজ আসলে স্বাধীনভাবে নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশিত পথেই হেঁটেছেন।

ট্রাম্পের ডেডলাইন ও শেহবাজের হস্তক্ষেপ

ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ‘আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহের জন্য ডেডলাইন বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। শরিফের এই বার্তার পর বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধের কাউন্টডাউন সাময়িকভাবে থমকে যায়।

হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ও এডিট বিতর্ক

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, শেহবাজ শরিফের ওই পোস্টটি করার আগে হোয়াইট হাউস থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। পোস্টের এডিট হিস্ট্রিতে ‘Draft – Pakistan’s PM Message on X’ লেখাটি দৃশ্যমান হওয়ায় এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রাফটটি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং মার্কিন প্রশাসনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তা জনসমক্ষে আনা হয়।

পাকিস্তানের ওপর কেন ভরসা করল আমেরিকা

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে এখানে একটি ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। সরাসরি পিছু হটলে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারত, তাই একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশকে দিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ানো হয়েছে যাতে ইরানের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হয়। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও এই প্রক্রিয়ায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিলেন।

পর্দার আড়ালে মুখরক্ষার লড়াই

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্প এমন একটি পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিলেন যেখানে যুদ্ধ ঘোষণা করা ছাড়া তাঁর হাতে পথ ছিল না। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা এড়াতে তিনি পাকিস্তানকে কাজে লাগিয়ে একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ তৈরি করেছেন। যদিও হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পাকিস্তান সরকারও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নীরবতা বজায় রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শেহবাজ কি সত্যিই শান্তির দূত, নাকি ট্রাম্পের সাজানো চিত্রনাট্যের একজন অভিনেতা মাত্র?

একঝলকে

  • ট্রাম্পের দেওয়া চরম হুঁশিয়ারির মাঝেই শেহবাজ শরিফের যুদ্ধবিরতির আবেদন।
  • ড্রাফট করা পোস্ট এবং এডিট হিস্ট্রি নিয়ে হোয়াইট হাউসের যোগসাজশের ইঙ্গিত।
  • দুই সপ্তাহের বাড়তি সময় চেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
  • ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আর্জি।
  • আমেরিকার মুখরক্ষায় পাকিস্তানকে ব্যবহারের জল্পনা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *