ট্রাম্পের এক হুমকিতেই কাজ! মাঝসমুদ্র থেকে ইউ-টার্ন নিল পাকিস্তানি জাহাজ

ট্রাম্পের এক হুমকিতেই কাজ! মাঝসমুদ্র থেকে ইউ-টার্ন নিল পাকিস্তানি জাহাজ

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোর্মুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বার্তার পর এই অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। হোর্মুজ প্রণালীর প্রবেশপথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও পাকিস্তানের ইউ-টার্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হোর্মুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ মার্কিন নৌবাহিনী খতম করতে সক্ষম। অতীতে ভেনেজুয়েলার সমুদ্রসীমায় মার্কিন নৌবাহিনী যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল, এবারও তেমন কৌশলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এই হুমকির প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। হোর্মুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া দুটি পাকিস্তানি বাণিজ্যিক জাহাজ ট্রাম্পের নির্দেশের পর মাঝপথ থেকেই ফিরে এসেছে (ইউ-টার্ন নিয়েছে)। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের অনুমতি নিয়ে এই পথে যাতায়াত করা জাহাজগুলো এখন ঝুঁকির মুখে পড়ার ভয়ে পিছু হটছে।

মার্কিন সামরিক শক্তিবৃদ্ধি ও সম্ভাব্য অবরোধ

বর্তমানে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী। ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মতো বিশাল বিমানবাহী রণতরী এই অঞ্চলে অবস্থান করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন নৌবাহিনী এখন এতটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে যে তারা চাইলেই এই সরু জলপথ দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না, তা নির্ধারণ করে দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান যদি কোনো রকম জেদ প্রদর্শন করে, তবে ওমান বা খাগ দ্বীপের কাছ থেকে যাতায়াতকারী প্রতিটি জলযানকে মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে প্রভাব

হোর্মুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি সরবরাহ রুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই পথ দিয়ে রাশিয়ার তেল ট্যাঙ্কারসহ ভারত ও চীনগামী একাধিক কার্গো জাহাজ চলাচল করেছে। আমেরিকা যদি পূর্ণাঙ্গ নাকেবন্দি বা অবরোধের পথে হাঁটে, তবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। এর ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

উত্তেজনার মূল কারণসমূহ

  • হোর্মুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানোর মার্কিন পরিকল্পনা।
  • মার্কিন রণতরী মোতায়েনের মাধ্যমে সমুদ্রপথের ওপর নজরদারি বাড়ানো।
  • আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের পরিবর্তে মার্কিন অনুমতির প্রয়োজনীয়তা তৈরির চেষ্টা।

একঝলকে

  • ট্রাম্পের হুমকিতে হোর্মুজ প্রণালী অভিমুখী পাকিস্তানি জাহাজের পথ পরিবর্তন।
  • পারস্য উপসাগরে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ও আব্রাহাম লিংকন রণতরী মোতায়েন।
  • আমেরিকা কর্তৃক হোর্মুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের জোরালো সম্ভাবনা।
  • জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় সংকটের আশঙ্কা।
  • রাশিয়া, ভারত ও চীনগামী জাহাজের যাতায়াতে কড়া নজরদারির পূর্বাভাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *