রক্ষকের ছদ্মবেশে ভক্ষক: দুর্ঘটনায় জখম তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শ্লীলতাহানি

রক্ষকের ছদ্মবেশে ভক্ষক: দুর্ঘটনায় জখম তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শ্লীলতাহানি

কেরলের কায়ামকুলামে এক মর্মান্তিক ও পাশবিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ

গত ৪ঠা এপ্রিল ভোরে কায়ামকুলামে পথ দুর্ঘটনার শিকার হন এক তরুণী। রক্তাক্ত অবস্থায় যখন তিনি সাহায্যের জন্য ছটফট করছিলেন, তখন ত্রাতার ভূমিকায় এগিয়ে আসেন ‘ব্যাপারি ব্যবসায়ী একোপনা সমিতি’র কায়ামকুলাম ইউনিট সভাপতি সিনিল সাবাদ। তিনি আহত তরুণীকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ উঠেছে, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চলন্ত গাড়িতেই তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতন চালান ওই ব্যক্তি।

মুখ বন্ধ রাখতে প্রলোভন ও হুমকি

নির্যাতিতার দাবি অনুযায়ী, এই জঘন্য অপরাধের কথা প্রকাশ না করার জন্য সিনিল সাবাদ এবং তার সহযোগীরা তাকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি পুলিশি অভিযোগ প্রত্যাহার করার বিনিময়ে তাকে লক্ষ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযোগ তুলে না নিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার দিনই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ী করা হলেও, অভিযুক্তের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তির কারণে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্যাতিতার মেডিকেল পরীক্ষা কিংবা জবানবন্দি রেকর্ড করার ক্ষেত্রে পুলিশের চরম গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

কড়া অবস্থানে কেরালা পুলিশ প্রধান

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের। কেরলের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) এই ঘটনার বিষয়ে আলপ্পুঝার এসপির কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

একঝলকে

  • ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কায়ামকুলামে গত ৪ঠা এপ্রিল ভোরে।
  • মূল অভিযুক্ত সিনিল সাবাদ একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা।
  • আহত তরুণীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পথে গাড়িতে শ্লীলতাহানি করা হয়।
  • অভিযোগ ধামাচাপা দিতে টাকা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
  • পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ডিজিপি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *